শরতের আগমনে পটুয়াখালীর দুমকির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন সাদা কাশফুলে ঢেকে গেছে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এসব কাশবন ঘিরে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
বিকেল হলেই যেন কাশবন এলাকা পরিণত হচ্ছে ছোটখাটো বিনোদনকেন্দ্রে। উপজেলার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এম কেরামত আলী হল প্রাঙ্গণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে ও পশ্চিম পাশ, কদমতলা কলেজ এলাকা, লেবুখালী আবাসন, উত্তর শ্রীরামপুরসহ পায়রা ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা কাশবন এখন দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ।
স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা থেকেও অনেকেই ছুটে আসছেন এই শুভ্র সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিশেষ করে বিকেলের শেষভাগে কাশফুলের সৌন্দর্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা সাদা ফুল আর নীল আকাশের মেলবন্ধন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন।
অনেকে আবার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন, তৈরি করছেন বিভিন্ন কনটেন্ট। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের কাশবনে মেয়েকে নিয়ে আসা এক দর্শনার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, প্রকৃতির এমন সুন্দর পরিবেশে এসে মনটা ভরে যায়। কাশফুলের শুভ্রতা যেন আলাদা এক শান্তি দেয়। প্রতিবছর শরতে আমরা কাশফুল দেখতে বের হই।
পবিপ্রবির শিক্ষার্থী রহমাতুল্লাহ কাওসার বলেন, দুমকির কাশবন এখন অনেকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন। তবে কিছু দর্শনার্থী ফুল ছিঁড়ে ফেলেন, এতে কাশবনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়। কদমতলা কলেজ এলাকায় ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী সজিব, সজল, আঁখি আক্তার বলেন, কাশফুলের বর্ণনা পড়েছি, কিন্তু বাস্তবে দেখে ভিন্ন অনুভূতি হয়েছে।
পুরো পরিবেশটাই অসাধারণ। স্মৃতি ধরে রাখতে আমরা ছবি তুলেছি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাশফুল শুধু শরতের সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক সম্পদও। তাই এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ফুল না ছেঁড়া, ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে কাশবনের এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।





















