আজ রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৫%

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:56:46 am, Sunday, 27 September 2026
  • 13

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের বড় একটি অংশে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক স্থানে ফাটল ও ধসের ফলে বাঁধটির প্রায় ৬০০ মিটার অংশ এখন চরম ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে।

এর ফলে নদীতীরবর্তী কাঁচকোল ও পুঁটিমারী এলাকার হাজারো মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থায়ী সমাধান না হয়ে বারবার এমন ধসের ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল বাজার ও পুঁটিমারী এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধের প্রায় ৩৫ মিটার অংশে নতুন করে ধস নামে।

এর আগে গত সপ্তাহেও কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন ডান তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার এবং এর থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারী বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও প্রায় ৩০ মিটার অংশে জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। পুরোনো দুটি স্থানের জরুরি মেরামতকাজ শুরুর আগেই নতুন এই ধসে এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বাঁধে ফাটল ও ধস শুরু হয়।

একের পর এক কংক্রিটের ব্লক ও জিও ব্যাগ নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে থাকে। এর আগেও চলতি বছরের গত ১, ১৬ ও ২০ জুলাই তিন দফায় একই বাঁধে ধস দেখা দিয়েছিল। সে সময় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একই স্থানে বারবার এমন বড় ধরনের ধস নামায় নদের গতি-প্রকৃতি ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে কাঁচকোল, পুঁটিমারীসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম, শত শত বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে নদীর পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙন ও ব্লক ধসে পড়ছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে বাঁধের এই বড় অংশ যেকোনো সময় নদীগর্ভে চলে যাবে।

তখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। ’ নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে চিলমারীর চরাঞ্চল ও তীরবর্তী মানুষের। দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনবসতি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। এদিকে বাঁধে ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাউবো রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উচ্চপদস্থ একটি দল।

তারা ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বাঁধ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন। পাউবোর প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারী পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার অংশের মধ্যে ইতিমধ্যে চারটি আলাদা স্থানে অন্তত ২০০ মিটার অংশজুড়ে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের ওই অংশ দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত হওয়ায় এবং ডান তীর ঘেঁষে নদের মূল প্রবাহ সক্রিয় থাকায় সেখানে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

পরিস্থিতি নিয়ে পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে চারটি স্থানে কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সার্বিক অবস্থা জানিয়ে প্রয়োজনীয় মেরামতকাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

’ আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে

Update Time : 06:56:46 am, Sunday, 27 September 2026

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের বড় একটি অংশে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক স্থানে ফাটল ও ধসের ফলে বাঁধটির প্রায় ৬০০ মিটার অংশ এখন চরম ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে।

এর ফলে নদীতীরবর্তী কাঁচকোল ও পুঁটিমারী এলাকার হাজারো মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থায়ী সমাধান না হয়ে বারবার এমন ধসের ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল বাজার ও পুঁটিমারী এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধের প্রায় ৩৫ মিটার অংশে নতুন করে ধস নামে।

এর আগে গত সপ্তাহেও কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন ডান তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার এবং এর থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারী বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও প্রায় ৩০ মিটার অংশে জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। পুরোনো দুটি স্থানের জরুরি মেরামতকাজ শুরুর আগেই নতুন এই ধসে এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বাঁধে ফাটল ও ধস শুরু হয়।

একের পর এক কংক্রিটের ব্লক ও জিও ব্যাগ নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে থাকে। এর আগেও চলতি বছরের গত ১, ১৬ ও ২০ জুলাই তিন দফায় একই বাঁধে ধস দেখা দিয়েছিল। সে সময় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একই স্থানে বারবার এমন বড় ধরনের ধস নামায় নদের গতি-প্রকৃতি ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে কাঁচকোল, পুঁটিমারীসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম, শত শত বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে নদীর পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙন ও ব্লক ধসে পড়ছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে বাঁধের এই বড় অংশ যেকোনো সময় নদীগর্ভে চলে যাবে।

তখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। ’ নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে চিলমারীর চরাঞ্চল ও তীরবর্তী মানুষের। দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনবসতি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। এদিকে বাঁধে ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাউবো রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উচ্চপদস্থ একটি দল।

তারা ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বাঁধ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন। পাউবোর প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারী পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার অংশের মধ্যে ইতিমধ্যে চারটি আলাদা স্থানে অন্তত ২০০ মিটার অংশজুড়ে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের ওই অংশ দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত হওয়ায় এবং ডান তীর ঘেঁষে নদের মূল প্রবাহ সক্রিয় থাকায় সেখানে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

পরিস্থিতি নিয়ে পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে চারটি স্থানে কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সার্বিক অবস্থা জানিয়ে প্রয়োজনীয় মেরামতকাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

’ আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।