রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে লাস্যময়ী অবতারে ধরা দিয়ে বিতর্কের শিরোনামে ঠাঁই পেয়েছিলেন কৃতি শ্যানন। যে প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসার ৪২ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে আসমুদ্রহিমাচলে।
অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগে নিন্দার ঝড় ওঠে সামাজিক মাধ্যমেও। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয়, নেটভুবনের সিংহভাগ নারীই কৃতিকে পোশাকবিধির পাঠ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে যখন অহরহ নারীদের ধর্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসার খবর প্রকাশ্যে আসে, তখন কেন চুপ সেসব নারী নীতিপুলিশেরা? প্রশ্ন তুলেছেন কৃতি। সম্প্রতি বিহারের জামুইতে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার এক সহপাঠীকে হেনস্তার অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক এমন আবহেই কৃতির এক পোস্টচর্চায়। যেখানে উল্লেখ, ‘বন্ধুরা, এটা পুরুষ বনাম নারীর লড়াই নয়। এই লড়াই আসলে নারীদের সঙ্গে পিতৃতান্ত্রিক, নারীবিদ্বেষী পুরুষ এবং সেই সব মগজধোলাই হওয়া নারীরÑ যারা আজও মনে করেন পিতৃতন্ত্রই আসল সংস্কার বা ঐতিহ্য। ’ অভিনেত্রীর এহেন পোস্টই আপাতত নেটভুবনের আতশকাচে। প্রশ্ন উঠেছে, আচমকাই কেন পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কৃতি শ্যানন?
একাংশের অনুমান, নারী নেটবাসিন্দারা নায়িকাদের সাজপোশাক, পোশাকের ঝুল, বক্ষবিভাজিকা নিয়ে কথা বললেও নারী নির্যাতন নিয়ে সেভাবে প্রতিবাদী আওয়াজ তোলেন না, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই হয়তো সমাজের মন-মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী। এমন আবহেই আরেকটি পোস্ট লাইক করে কৃতি নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
যে পোস্টে লেখা ছিল, ‘উৎসবের কোনো বিজ্ঞাপনে কোনো অভিনেত্রীর শরীরের বিশেষ অংশ বা ক্লিভেজ দৃশ্যমান হলে এ দেশে যতটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, ধর্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসা বা যৌতুকের কারণে মৃত্যুর ঘটনায় ততটা হয় নাÑ এ বিষয়টাই সমাজের অগ্রাধিকারের জায়গাটা স্পষ্ট করে দেয়। ’ আর এহেন পোস্টে সমর্থন করার পরই পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতাকে বিঁধে ওই পোস্ট ভাগ করে নিয়েছেন কৃতি শ্যানন।



















