সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় আকস্মিক টর্নেডোর তা-বে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বাতাসের তোড়ে বেশ কয়েকটি কাঁচা বসতঘর ভেঙে পড়েছে এবং একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের চাল উড়ে গেছে। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
এলাকাবাসী জানান, গত শুক্রবার রাতে আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের উত্তর বাইনতলা গ্রামে হঠাৎ প্রচ- বেগের বাতাসে এই টর্নেডো আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের দাউদ মোল্লা, আইয়ুব আলী মোল্লা, সাহেব আলী মোল্লাা এবং তার ছেলে নয়ন মোল্লার চারটি কাঁচা বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় ঘরের ছাউনি ও বেড়া দূরে উড়ে যায় এবং আসবাবপত্র নষ্ট হয়।
এতে প্রায় ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। ক্ষতিগ্রস্ত দাউদ মোল্লা বলেন, ‘রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে ঘরের চাল উড়ে যায়। ঘরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অন্যদিকে, রাত আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার ধূলিহর ইউনিয়নে হঠাৎ ঘূর্ণিবায়ু শুরু হয়।
ঝড়ে ধূলিহরের যুগিপোতা এলাকায় তিনটি বসতবাড়ির চাল উড়ে যায়। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী শুকদেবপুর এলাকার একটি মন্দিরের চালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের তা-বে বাড়িঘর ও মন্দিরের চাল উড়ে যায় এবং গাছপালা ভেঙে রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ঝড়ের খবরের পর বাইনতলা গ্রাম পরিদর্শন করেন ইউনিয়ন যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ ও ইউনিয়ন জামায়াতের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল গফুর সানা।
তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এদিকে ধূলিহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে গতকাল সকালে এলাকা পরিদর্শন করেন ধূলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তাকদীর আহসান রুবেল। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করা হবে। টর্নেডোতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আশাশুনির ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে ইতিমধ্যে লোক পাঠানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে।



















