আজ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮০%

চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখাল শিক্ষার্থীরা

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:20:53 pm, Saturday, 26 September 2026
  • 13

চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখাল শিক্ষার্থীরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড দেখিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের উদ্দেশে লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকালে তারা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন করেন। পাশাপাশি নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে রাত জেগে পালা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে পাহারা দেন তারা। আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

তাদের একমাত্র দাবি, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে আবারও উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া। দীর্ঘদিন আন্দোলনের পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা হতাশ। ওই শিক্ষার্থী বলেন, তারাও দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চান। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন ও ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তারা গ্রাফিতি আঁকছেন। তার দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভালো কাজ করছিলেন এবং কাজগুলো করার জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। এর আগে শুক্রবার দুপুরে উপাচার্য পদে যোগ দেওয়া অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

পরে রাতে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে মূল ফটকে ভেতর থেকে তালা দিয়ে পালা করে পাহারা দেন তারা। শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড় রয়েছেন। তাদের আন্দোলনের কারণে চুয়েটে এখনো কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।

একই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও। গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এরপর আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করায় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই রাতে তার নিয়োগের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন উপাচার্যকে চুয়েটে না চাওয়ার কথা জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি। গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।

পরে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।

আন্দোলনের কারণে চুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণাকারী চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখাল শিক্ষার্থীরা

Update Time : 06:20:53 pm, Saturday, 26 September 2026

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড দেখিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের উদ্দেশে লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকালে তারা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন করেন। পাশাপাশি নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে রাত জেগে পালা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে পাহারা দেন তারা। আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

তাদের একমাত্র দাবি, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে আবারও উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া। দীর্ঘদিন আন্দোলনের পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা হতাশ। ওই শিক্ষার্থী বলেন, তারাও দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চান। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন ও ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তারা গ্রাফিতি আঁকছেন। তার দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভালো কাজ করছিলেন এবং কাজগুলো করার জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। এর আগে শুক্রবার দুপুরে উপাচার্য পদে যোগ দেওয়া অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

পরে রাতে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে মূল ফটকে ভেতর থেকে তালা দিয়ে পালা করে পাহারা দেন তারা। শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড় রয়েছেন। তাদের আন্দোলনের কারণে চুয়েটে এখনো কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।

একই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও। গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এরপর আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করায় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই রাতে তার নিয়োগের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন উপাচার্যকে চুয়েটে না চাওয়ার কথা জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি। গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।

পরে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।

আন্দোলনের কারণে চুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।