আজ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮০%

১৫ বছর পূর্তিতে দুই দিনের ছোটকাকু উৎসব শুরু হচ্ছে

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:57:39 pm, Saturday, 26 September 2026
  • 10

১৫ বছর পূর্তিতে দুই দিনের ছোটকাকু উৎসব শুরু হচ্ছে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শিশু-কিশোরদের প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ছোটকাকু এবার হাজির হচ্ছে উৎসবের আমেজে। বইয়ের পাতা থেকে টেলিভিশনের পর্দায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই চরিত্রকে ঘিরে আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আলোকি, গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী ছোটকাকু উৎসব ২০২৬।

উৎসব উপলক্ষে শনিবার দুপুরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংবাদ সম্মেলন ‘সাংবাদিক সমীপে ছোটকাকু উৎসব’। এতে উপস্থিত ছিলেন ছোটকাকুর স্রষ্টা ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন, অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক তারিক আনাম খানসহ ছোটকাকুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকে।

দুই দিনের এই উৎসবে থাকছে মজাদার প্রতিযোগিতা, পুরস্কার, আড্ডা, আলোচনা ও নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পুরো পরিবার নিয়েই উৎসবে অংশ নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

‘ছোটকাকু উৎসব’-এর অন্যতম আয়োজক সানাউল আরেফিন বলেন, ‘বাচ্চাদের কথা বিবেচনা করে আমরা দুই দিনের পুরো আয়োজনটি রেখেছি। তারা যেন খুব সুন্দর কিছু নিয়ে ঘরে ফিরতে পারে।’

২০০৪ সালে ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ দিয়ে ছোটকাকু লেখার পরিকল্পনা শুরু হয় বলে জানান ফরিদুর রেজা সাগর। তার পরিকল্পনা ছিল, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছোটকাকুকে নিয়ে যাওয়া হবে, তবে কখনো দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ছোটকাকুর ৪৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি বইয়ের গল্পে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ৪৫টি জেলা।

ছোটকাকুর স্রষ্টা জানান, তার নিজের জীবনেও এই চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন দুজন মানুষ। তিনি বলেন, ‘আমার সত্যিই একজন ছোটকাকু ছিলেন ড. ফজলুল আলম। আর ছোটকাকু মূলত যার প্রেরণায় লেখা হয়েছে, তিনি আমীরুল ইসলাম। সম্প্রতি তিনি প্রয়াত হয়েছেন। দুজনেই আমাদের ছেড়ে গেছেন, কিন্তু ছোটকাকু চরিত্রটা রয়ে গেছে।’

বইয়ের পাতার চরিত্রটিকে টেলিভিশনের পর্দায় জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে আফজাল হোসেনের অবদানের কথাও স্মরণ করেন ফরিদুর রেজা সাগর। ১৫ বছর ধরে ছোটকাকু চরিত্রে অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন।

ছোটকাকুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময়ের কথা বলতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ছোটকাকু চরিত্রে আমি ১৫ বছর ধরে অভিনয় করেছি, আর আমি অভিনয় করি চল্লিশ বছর ধরে। ছোটকাকু চরিত্রে যখন অভিনয় শুরু করি, তখন অভিনয় থেকে আমি প্রায় বাইরে চলে গেছি। আমাকে অভিনয় আর তখন আকর্ষণ করছিল না।’

ছোটকাকু উৎসবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আফজাল হোসেন বলেন, ‘জীবনে আনন্দ ও উৎসব প্রয়োজন। সেই আনন্দ ও উৎসাহ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এই আয়োজন। তার ভাষায়, “আমাদের জীবনে শুধু আছে অনুযোগ, অভিযোগ আর দোষ ধরা। কিন্তু ভালোও যে আছে, সে কথাটাও তো আয়োজন করে বলতে হবে। প্রশংসা করার মতো কাজ যে দেশে হয়, সেটাও তো বলতে হবে। তার জন্যই আমাদের ছোটকাকু উৎসব।’

শাইখ সিরাজ আরও বলেন, ‘ছোটকাকুর জনপ্রিয়তা এখন শুধু শহরের শিশুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, পৌঁছে গেছে প্রান্তিক পর্যায়েও। তিনি বলেন, “ছোটকাকুর কথা প্রান্তিক অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে আমি যখন কৃষকের ঈদ আনন্দ করতে যাই, সেখানে অসংখ্য দর্শক থাকে, তার মধ্যে ছোট ছোট কিছু দর্শক থাকে। তাদেরও খেলা থাকে। আমি প্রায়শই সাগরের কাছ থেকে শিশুদের জন্য ছোটকাকুর যে স্কুল ব্যাগ, সেগুলো শিশুদের সেগমেন্টের জন্য নিয়ে যাই। তখন দেখি, ছোটকাকুর এই ব্যাগের জন্য কাড়াকাড়ি লেগে যায়। তার মানে বোঝাই যায়, তৃণমূল পর্যন্ত ছোটকাকু নাটকটির আবেদন তৈরি হয়েছে।’

গল্প, রহস্য ও বিনোদনের পাশাপাশি সাহসিকতা, আত্মবিশ্বাস, পর্যবেক্ষণশক্তি এবং অন্যকে সাহায্য করার ইতিবাচক বার্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে রয়েছে ছোটকাকু। এবার সেই প্রিয় চরিত্রকে ঘিরেই আয়োজন করা হচ্ছে দুই দিনের উৎসব। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পুরো পরিবারকে নিয়ে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮২

১৫ বছর পূর্তিতে দুই দিনের ছোটকাকু উৎসব শুরু হচ্ছে

Update Time : 06:57:39 pm, Saturday, 26 September 2026

শিশু-কিশোরদের প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ছোটকাকু এবার হাজির হচ্ছে উৎসবের আমেজে। বইয়ের পাতা থেকে টেলিভিশনের পর্দায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই চরিত্রকে ঘিরে আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আলোকি, গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী ছোটকাকু উৎসব ২০২৬।

উৎসব উপলক্ষে শনিবার দুপুরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংবাদ সম্মেলন ‘সাংবাদিক সমীপে ছোটকাকু উৎসব’। এতে উপস্থিত ছিলেন ছোটকাকুর স্রষ্টা ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন, অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক তারিক আনাম খানসহ ছোটকাকুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকে।

দুই দিনের এই উৎসবে থাকছে মজাদার প্রতিযোগিতা, পুরস্কার, আড্ডা, আলোচনা ও নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পুরো পরিবার নিয়েই উৎসবে অংশ নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

‘ছোটকাকু উৎসব’-এর অন্যতম আয়োজক সানাউল আরেফিন বলেন, ‘বাচ্চাদের কথা বিবেচনা করে আমরা দুই দিনের পুরো আয়োজনটি রেখেছি। তারা যেন খুব সুন্দর কিছু নিয়ে ঘরে ফিরতে পারে।’

২০০৪ সালে ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ দিয়ে ছোটকাকু লেখার পরিকল্পনা শুরু হয় বলে জানান ফরিদুর রেজা সাগর। তার পরিকল্পনা ছিল, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছোটকাকুকে নিয়ে যাওয়া হবে, তবে কখনো দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ছোটকাকুর ৪৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি বইয়ের গল্পে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ৪৫টি জেলা।

ছোটকাকুর স্রষ্টা জানান, তার নিজের জীবনেও এই চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন দুজন মানুষ। তিনি বলেন, ‘আমার সত্যিই একজন ছোটকাকু ছিলেন ড. ফজলুল আলম। আর ছোটকাকু মূলত যার প্রেরণায় লেখা হয়েছে, তিনি আমীরুল ইসলাম। সম্প্রতি তিনি প্রয়াত হয়েছেন। দুজনেই আমাদের ছেড়ে গেছেন, কিন্তু ছোটকাকু চরিত্রটা রয়ে গেছে।’

বইয়ের পাতার চরিত্রটিকে টেলিভিশনের পর্দায় জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে আফজাল হোসেনের অবদানের কথাও স্মরণ করেন ফরিদুর রেজা সাগর। ১৫ বছর ধরে ছোটকাকু চরিত্রে অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন।

ছোটকাকুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময়ের কথা বলতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ছোটকাকু চরিত্রে আমি ১৫ বছর ধরে অভিনয় করেছি, আর আমি অভিনয় করি চল্লিশ বছর ধরে। ছোটকাকু চরিত্রে যখন অভিনয় শুরু করি, তখন অভিনয় থেকে আমি প্রায় বাইরে চলে গেছি। আমাকে অভিনয় আর তখন আকর্ষণ করছিল না।’

ছোটকাকু উৎসবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আফজাল হোসেন বলেন, ‘জীবনে আনন্দ ও উৎসব প্রয়োজন। সেই আনন্দ ও উৎসাহ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এই আয়োজন। তার ভাষায়, “আমাদের জীবনে শুধু আছে অনুযোগ, অভিযোগ আর দোষ ধরা। কিন্তু ভালোও যে আছে, সে কথাটাও তো আয়োজন করে বলতে হবে। প্রশংসা করার মতো কাজ যে দেশে হয়, সেটাও তো বলতে হবে। তার জন্যই আমাদের ছোটকাকু উৎসব।’

শাইখ সিরাজ আরও বলেন, ‘ছোটকাকুর জনপ্রিয়তা এখন শুধু শহরের শিশুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, পৌঁছে গেছে প্রান্তিক পর্যায়েও। তিনি বলেন, “ছোটকাকুর কথা প্রান্তিক অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে আমি যখন কৃষকের ঈদ আনন্দ করতে যাই, সেখানে অসংখ্য দর্শক থাকে, তার মধ্যে ছোট ছোট কিছু দর্শক থাকে। তাদেরও খেলা থাকে। আমি প্রায়শই সাগরের কাছ থেকে শিশুদের জন্য ছোটকাকুর যে স্কুল ব্যাগ, সেগুলো শিশুদের সেগমেন্টের জন্য নিয়ে যাই। তখন দেখি, ছোটকাকুর এই ব্যাগের জন্য কাড়াকাড়ি লেগে যায়। তার মানে বোঝাই যায়, তৃণমূল পর্যন্ত ছোটকাকু নাটকটির আবেদন তৈরি হয়েছে।’

গল্প, রহস্য ও বিনোদনের পাশাপাশি সাহসিকতা, আত্মবিশ্বাস, পর্যবেক্ষণশক্তি এবং অন্যকে সাহায্য করার ইতিবাচক বার্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে রয়েছে ছোটকাকু। এবার সেই প্রিয় চরিত্রকে ঘিরেই আয়োজন করা হচ্ছে দুই দিনের উৎসব। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পুরো পরিবারকে নিয়ে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।