আজ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৪%

পাকুন্দিয়ায় সানি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:41:58 pm, Saturday, 26 September 2026
  • 14

পাকুন্দিয়ায় সানি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ফরহাদ হাসান সানি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এবং নিহতের পরিবারকে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত সানির স্ত্রী মোছা. সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে তার স্বামী মো. ফরহাদ হাসান সানিকে মফিজুল (২৫), নজরুল ইসলাম (৩২), আজিজুল ইসলাম (৪০) ও মকবুল (৩০)সহ অজ্ঞাত কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। সুমাইয়া আক্তার বলেন, ঘটনার পরদিন তিনি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও অজ্ঞাতনামা বা হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে অপর তিন আসামি জামিন পেয়েছেন উল্লেখ করে সুমাইয়া অভিযোগ করেন, ওই জবানবন্দিতে নিহত সানির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই তাঁর মৃত স্বামীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। নিহতের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে তারা শঙ্কিত। এ ছাড়া জামিনে থাকা আসামি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন সুমাইয়া। তার ১৮ বছর বয়সী দেবরকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুই শিশুসন্তান নিয়ে বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার। স্বামী হত্যার বিচার পাওয়ার আশায় আদালত ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার, মা পারভীন, মেয়ে তানজিনা, ছেলে তায়িফ, মামাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিন পাপেল, চাচা নুরুল ও আব্দুল আউয়ালসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে চারজন নামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি বেড়ে ১০৮৭

পাকুন্দিয়ায় সানি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

Update Time : 03:41:58 pm, Saturday, 26 September 2026

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ফরহাদ হাসান সানি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এবং নিহতের পরিবারকে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত সানির স্ত্রী মোছা. সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে তার স্বামী মো. ফরহাদ হাসান সানিকে মফিজুল (২৫), নজরুল ইসলাম (৩২), আজিজুল ইসলাম (৪০) ও মকবুল (৩০)সহ অজ্ঞাত কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। সুমাইয়া আক্তার বলেন, ঘটনার পরদিন তিনি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও অজ্ঞাতনামা বা হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে অপর তিন আসামি জামিন পেয়েছেন উল্লেখ করে সুমাইয়া অভিযোগ করেন, ওই জবানবন্দিতে নিহত সানির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই তাঁর মৃত স্বামীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। নিহতের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে তারা শঙ্কিত। এ ছাড়া জামিনে থাকা আসামি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন সুমাইয়া। তার ১৮ বছর বয়সী দেবরকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুই শিশুসন্তান নিয়ে বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার। স্বামী হত্যার বিচার পাওয়ার আশায় আদালত ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার, মা পারভীন, মেয়ে তানজিনা, ছেলে তায়িফ, মামাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিন পাপেল, চাচা নুরুল ও আব্দুল আউয়ালসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে চারজন নামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।