মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আসিয়ান কাপের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকা শক্তিশালী মালয়েশিয়ার কাছে বলতে গেলে অসহায় আত্মসমর্পণই করেছেন তারিক কাজি-সাদ উদ্দিনরা।
শুক্রবার গ্রুপ এ’র প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তৃতীয় গোল হজম করলে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে হামজা-শমিত সোমরা। এরপর ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন আক্রমণ ও সুযোগ তৈরি করা ছাড়া গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।
অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মনের অনুপস্থিতিটা ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। তিনটি গোলেই ছিল রক্ষণের ভুল। দু’পাশে সাদ উদ্দিন ও জায়ান আহমেদকে রেখে শাকিল তপু ও তারিক কাজির সমন্বয়ে গড়া রক্ষণ একটি ইউনিট হিসেবে খেলতে পারেনি। গোলরক্ষক শ্রাবণ কয়েকটি সেভ দিলেও দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেনি মালয়েশিয়ার সামনে। ফলে হরে-দরে গোলের সুযোগ পেয়েছে মালয়েশিয়া।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে ডান দিকের হাফ স্পেস দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মালয়েশিয়ার আরিফ আইমান। সাথে মার্কার থাকা সত্ত্বেও বাইলাইনের কাছাকাছি পৌঁছে কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে আগুয়ান গোলরক্ষকের দু’পায়ের ফাঁক গলে বল জালে পাঠাতে কোনো সমস্যাই হয়নি এই মালয়েশিয়ানের।
প্রশ্ন করা যেতেই পারে, যে অ্যাঙ্গেল থেকে তাকে শট নিতে হয়েছে, সেখানে গোল ছেড়ে বেরিয়ে আসার কি খুব দরকার ছিল গোলরক্ষক শ্রাবণের। তারও আগে, বক্সের ভেতরে কেন আরিফ আইমানকে এতটা স্পেস ছেড়ে দেওয়া হলো? এসব প্রশ্নের উত্তরে মেলা ভার।
প্রথম গোলের ঠিক ২০ মিনিট পর আবারও বাংলাদেশের জালে বল। এবারও সেই আরিফ আইমান। তবে ব্যর্থতার দায়টা এবার সেন্টারব্যাকের। গোলমুখের ঠিক মাঝখানে এভাবে বিপক্ষের স্ট্রাইকারকে জায়গা করে দেওয়া, আর আত্মঘাতী গোল করা- সমার্থকই বটে। ২-০ গোলের ব্যবধানে প্রথমার্ধ শেষ হলেও, ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হলে গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ছিল একইরকম। বাংলাদেশের গোলমুখে মালয়েশিয়ার আধিপত্য। তৃতীয় গোলটা পেতে তাই খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি মালয়েশিয়ানদের। ৫৩ মিনিটের এই গোল আরও একবার তপু বর্মণের অনুপস্থিতি টের পাইয়ে দেয়। বাম দিকের হাফ স্পেসে বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে যান মালয়েশিয়ার বার্গসন, যখন তার পিঠ গোলমুখী।
সেখান থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গোলে যে শট নেন তিনি, সেটা যতটা না অসামান্য ও দুর্দান্ত, তার চেয়েও বেশি শ্রীহীন-ছন্নছাড়া ছিল এক হাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি ডিফেন্ডারের নিস্ক্রিয়তা। এটা কি সামগ্রিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ, নাকি অদক্ষতা- সেটা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে।
প্রথমার্ধে দলের সার্বিক পারফরম্যান্স দেখে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দুই প্রবসী ফুটবলার- শুকি ইতোফুসা ও ফারহান আলি ওয়াহিদকে মাঠে নামান কোচ থমাস ডুলি। দু’জনের অভিষেক হয় বাংলাদেশের জার্সিতে। তাতে কিছুটা হলেও কাজ হয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫-২০ মিনিটে বাংলাদেশ তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেলেছে, আক্রমণে উঠেছে। ৭৬ মিনিটে হামজা প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ না হলে, ম্যাচের ফলাফল কিছুটা হলেও ভদ্রস্থ দেখাত বাংলাদেশের জন্য।
সার্বিকভাবে হতাশাজনক পারফরম্যান্স দিয়েই ফিফা আসিয়ান কাপ শুরু করল বাংলাদেশ। গ্রুপ এ’তে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর। এরপর ১ অক্টোবর গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। গ্রুপের শীর্ষে থাকা দল পৌঁছাবে টুর্নামেন্টের (ডিভিশন ১) ফাইনালে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
ফিফা আসিয়ান কাপের এবারের প্রথম আসরে বাংলাদেশ দুর্দান্ত কিছু উপহার দিবে, এমন প্রত্যাশা হয়তো ছিল না। কিন্তু কোচ থমাস ডুলির অধীনে দল কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলবে এবং দলের পারফরম্যান্সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার ছাপ দেখা যাবে- এটুকু আশা নিশ্চয়ই করতে পারে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। প্রথম ম্যাচে যে সে আশা পূর্ণ হয়নি এটা স্পষ্ট। বাকি দুই ম্যাচে বাংলাদেশ কেমন ফুটবল উপহার দেয়- সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
























