আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

কুরিয়ার ভ্যানের কেবিনে মিলল ইয়াবার চালান

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:03:50 pm, Thursday, 24 September 2026
  • 8

কুরিয়ার ভ্যানের কেবিনে মিলল ইয়াবার চালান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুরিয়ার ভ্যানে সাজানো পার্সেল ও বাইরে গন্তব্যের ঠিকানা দেখে সন্দেহের কোনো কারণ ছিল না। তবে সেই কুরিয়ার ভ্যানের কেবিনেই বহন করা হচ্ছিল ইয়াবার চালান। ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে বগুড়ার শাজাহানপুরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

এ ঘটনায় ভ্যানচালক, হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএনসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক দিয়ে রংপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল স্টিডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের একটি কাভার্ড ভ্যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভ্যানটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় পৌঁছালে ডিএনসির একটি দল সেটি থামায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই ভ্যানটিতে মাদকের চালান থাকার বিষয়ে তথ্য পেয়েছিল সংস্থাটি।

ডিএনসি বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভ্যানের কেবিন ও সেখানে থাকা ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে কেবিন থেকে একটি খাকি রঙের কাগজের খাম পাওয়া যায়। খামটির ভেতরে স্কচটেপে মোড়ানো নীল রঙের জিপারযুক্ত ১০টি প্যাকেট ছিল। প্যাকেটগুলো খুলে নয়টিতে ২০০ পিস করে মোট ১ হাজার ৮০০ পিস এবং অপর একটি প্যাকেটে ১৬৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা। ডিএনসির হিসাবে এসব ইয়াবার ওজন ১৯৬ দশমিক ৫ গ্রাম। অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কুরিয়ার ভ্যানটিও জব্দ করা হয়েছে। ভ্যানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-অ-১১-৬৪৬১। এছাড়া গাড়ির ডেলিভারি চালান, চালান অনুযায়ী কুরিয়ার সার্ভিসের দুটি পার্সেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ভ্যানচালক রাছেল হাওলাদার, হেলপার রোকনুজ্জামান ও মকবুল হোসেন।

রাছেলের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে, রোকনুজ্জামান রংপুরের মিঠাপুকুরের বাসিন্দা এবং মকবুল হোসেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাসিন্দা। তবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত মালিক কে, কোথা থেকে চালানটি ভ্যানে ওঠানো হয়েছিল এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুরিয়ার ভ্যানে থাকা তিনজনের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং নিয়মিত পণ্য পরিবহনের আড়ালে মাদক পরিবহনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে ডিএনসি।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে ভ্যানটি থামানোর আগেই মাদক পরিবহনের বিষয়ে সংস্থাটির কাছে তথ্য ছিল। তবে এই চালানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জব্দ করা তিনটি মোবাইল ফোন, গাড়ির ডেলিভারি চালান এবং কুরিয়ার পার্সেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এসব আলামত যাচাই করে ইয়াবার চালানের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। ডিএনসি বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, মাদকের এই চালানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় ডিএনসির বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. তাহিদুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছেন।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, কুরিয়ার ভ্যান সাধারণত মানুষের পাঠানো পণ্য এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পৌঁছে দেয়। এই স্বাভাবিক পরিবহনব্যবস্থাকে মাদক পাচারে ব্যবহার করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চালান পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বগুড়ার এই অভিযান কুরিয়ার পরিবহনকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের এমন একটি ঘটনা সামনে এনেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় নির্বাচন: ইসি আনোয়ারুল ইসলাম

কুরিয়ার ভ্যানের কেবিনে মিলল ইয়াবার চালান

Update Time : 07:03:50 pm, Thursday, 24 September 2026

কুরিয়ার ভ্যানে সাজানো পার্সেল ও বাইরে গন্তব্যের ঠিকানা দেখে সন্দেহের কোনো কারণ ছিল না। তবে সেই কুরিয়ার ভ্যানের কেবিনেই বহন করা হচ্ছিল ইয়াবার চালান। ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে বগুড়ার শাজাহানপুরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

এ ঘটনায় ভ্যানচালক, হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএনসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক দিয়ে রংপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল স্টিডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের একটি কাভার্ড ভ্যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভ্যানটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় পৌঁছালে ডিএনসির একটি দল সেটি থামায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই ভ্যানটিতে মাদকের চালান থাকার বিষয়ে তথ্য পেয়েছিল সংস্থাটি।

ডিএনসি বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভ্যানের কেবিন ও সেখানে থাকা ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে কেবিন থেকে একটি খাকি রঙের কাগজের খাম পাওয়া যায়। খামটির ভেতরে স্কচটেপে মোড়ানো নীল রঙের জিপারযুক্ত ১০টি প্যাকেট ছিল। প্যাকেটগুলো খুলে নয়টিতে ২০০ পিস করে মোট ১ হাজার ৮০০ পিস এবং অপর একটি প্যাকেটে ১৬৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা। ডিএনসির হিসাবে এসব ইয়াবার ওজন ১৯৬ দশমিক ৫ গ্রাম। অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কুরিয়ার ভ্যানটিও জব্দ করা হয়েছে। ভ্যানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-অ-১১-৬৪৬১। এছাড়া গাড়ির ডেলিভারি চালান, চালান অনুযায়ী কুরিয়ার সার্ভিসের দুটি পার্সেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ভ্যানচালক রাছেল হাওলাদার, হেলপার রোকনুজ্জামান ও মকবুল হোসেন।

রাছেলের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে, রোকনুজ্জামান রংপুরের মিঠাপুকুরের বাসিন্দা এবং মকবুল হোসেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাসিন্দা। তবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত মালিক কে, কোথা থেকে চালানটি ভ্যানে ওঠানো হয়েছিল এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুরিয়ার ভ্যানে থাকা তিনজনের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং নিয়মিত পণ্য পরিবহনের আড়ালে মাদক পরিবহনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে ডিএনসি।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে ভ্যানটি থামানোর আগেই মাদক পরিবহনের বিষয়ে সংস্থাটির কাছে তথ্য ছিল। তবে এই চালানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জব্দ করা তিনটি মোবাইল ফোন, গাড়ির ডেলিভারি চালান এবং কুরিয়ার পার্সেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এসব আলামত যাচাই করে ইয়াবার চালানের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। ডিএনসি বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, মাদকের এই চালানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় ডিএনসির বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. তাহিদুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছেন।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, কুরিয়ার ভ্যান সাধারণত মানুষের পাঠানো পণ্য এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পৌঁছে দেয়। এই স্বাভাবিক পরিবহনব্যবস্থাকে মাদক পাচারে ব্যবহার করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চালান পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বগুড়ার এই অভিযান কুরিয়ার পরিবহনকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের এমন একটি ঘটনা সামনে এনেছে।