২০২৬ বিশ্বকাপই হবে তাঁর জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে— এ কথা নিজেই জানিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অনেকে তাই ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপের পরেই হয়তো জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পর্তুগালের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোনালদো।
জাতীয় দলের হয়ে আরেকটি নেশনস লিগের শিরোপা জিততে চান তিনি। এমনকি শরীর সায় দিলে ২০২৮ ইউরোতেও দেখা যেতে পারে রোনালদোকে। উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে আজ ওয়েলসের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। সেই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসব জানিয়েছেন রোনালদো।
তা রোনালদো কেন হঠাৎ অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন? এ প্রসঙ্গে পর্তুগিজ কিংবদন্তি জানিয়েছেন, যেদিন তাঁর মনে হবে জাতীয় দলের জন্য আর কিছু করতে পারছেন না, সেদিনই তিনি বিদায় নেবেন।
সর্বশেষ বিশ্বকাপেই রোনালদোর মধ্যে বয়সের ছাপ দেখা গেছে। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে নিজেকে খুব একটা মেলেও ধরতে পারেননি তিনি। এতে রোনালদোর অবসর নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। রোনালদো নিজেও বিশ্বকাপের পর অবসরের কথা ভেবেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
রোনালদোর ভাষায়, ‘হ্যাঁ, (অবসরের কথা) ভেবেছিলাম। অবশ্যই। আমি সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ, এমনকি বর্তমান নিয়েও ভাবি। আমি অনেক ভাবি। ভাবতে হয়। এ কারণেই এখন আমাকে এখানে দেখতে পাচ্ছেন। এর মানে হলো, আমি খেলা চালিয়ে যাব।’
কতদিন খেলা চালিয়ে যাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেছেন, ‘আমি আমাদের প্রেসিডেন্ট ও কোচের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি এখনও বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করার মতো সামর্থ্য আমার আছে। আর যেদিন মনে হবে এখানে আমার আর কিছু করার নেই, সেদিনই আমি অবসর নেব।’
ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পর্তুগালের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘আ বোলা’ একটি জরিপ চালায়। সেই জরিপে পাঠকদের নিজেদের পছন্দের একাদশ বেছে নিতে বলা হয়। সেই একাদশে জায়গা হয়নি রোনালদোর।
এ প্রসঙ্গে রোনালদো বলেছেন, ‘আমি বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে অনেকবারই বলেছি— এত বছর ধরে ফুটবল খেলছি। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব জায়গাতেই মানুষ আমাকে স্বাগত জানিয়েছে। আমি মনে করি, পর্তুগালের সমর্থকেরা আমাকে পছন্দ করেন। তবে এটাও বুঝি, ‘কিছু টিভি চ্যানেল সমালোচনা করে আমাকে শেষ করে দিতে চায়… কিন্তু তারা কখনোই সফল হবে না। শুধু শিকারের রাইফেল দিয়ে গুলি করলেই হয়তো (আমাকে থামানো) সম্ভব! তবে সেক্ষেত্রেও দেখা যাবে, আমি গুলি এড়িয়ে গেছি।’
সমালোচনাকে খুব একটা পাত্তা দেন না জানিয়ে রোনালদো বলেছেন, ‘যাই হোক, এসব আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি এসবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে আমার মনে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে আছে সেই মানুষগুলো, যারা আমাকে ভালোবাসেন।’
তবে রোনালদো এটাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, জাতীয় দলের জার্সিতে এই মৌসুমটাই হতে পারে তাঁর শেষ। একই সঙ্গে ইউরো ২০২৮-এর পথও খোলা রাখছেন তিনি। রোনালদোর ভাষায়, ‘এটাই কি আমার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়? হয়তো, আমি জানি না… কারণ এটাই আমার শেষ মৌসুম হতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত নই। দেখা যাক কী হয়।’
সব কিছু নির্ভর করবে শারীরিক অবস্থার ওপর, সেটি উল্লেখ করে রোনালদো বলেছেন, ‘আমার শরীর যদি সায় দেয়, মনও যদি চায় এবং আমি যদি এখনও ভালো অবস্থায় থাকি, তাহলে হয়তো চালিয়ে যাব। কিন্তু আমি জানি না। সামনে কী হবে, সেটাও জানি না।’
২০২৮ ইউরোতে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেছেন, ‘২০২৮ ইউরো? দেখা যাক… আমি প্রতিটি দিনকে আলাদাভাবে উপভোগ করি। এখন আমার লক্ষ্য হলো নেশনস লিগ জেতা এবং ক্যারিয়ারে ১,০০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরে খেলা রোনালদো ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৯৭৯টি গোল করেছেন।






















