আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯২%

জাতিসংঘে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:23:04 pm, Thursday, 24 September 2026
  • 13

জাতিসংঘে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় আজ বিকেলে তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এটি হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ইস্যু গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

তবে এবারের সফর ও ভাষণে অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভাষণের আগে বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকেও এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটসহ অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে প্রায় আট বছর ধরে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের কারণে দেশের ওপর মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। তাই সংকটটির স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ। সফরের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং ইউএনএইচসিআরের প্রধান বারহাম সালেহের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরবেন তিনি। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি রোহিঙ্গা সংকটের ওপর ধরে রাখা এবং এর দায় ও সমাধানের মূল দায়িত্ব মিয়ানমারের ওপর রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা। এদিকে সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুও উঠে এসেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের সম্পর্কের ইতিহাসও দীর্ঘ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর। আজ তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সৌদিকে সহায়তা করলে মার্কিন স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি হুতিদের

জাতিসংঘে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : 12:23:04 pm, Thursday, 24 September 2026

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় আজ বিকেলে তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এটি হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ইস্যু গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

তবে এবারের সফর ও ভাষণে অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভাষণের আগে বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকেও এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটসহ অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে প্রায় আট বছর ধরে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের কারণে দেশের ওপর মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। তাই সংকটটির স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ। সফরের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং ইউএনএইচসিআরের প্রধান বারহাম সালেহের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরবেন তিনি। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি রোহিঙ্গা সংকটের ওপর ধরে রাখা এবং এর দায় ও সমাধানের মূল দায়িত্ব মিয়ানমারের ওপর রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা। এদিকে সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুও উঠে এসেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের সম্পর্কের ইতিহাসও দীর্ঘ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর। আজ তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।