আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৭%

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা পেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:39:02 am, Thursday, 24 September 2026
  • 24

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা পেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সফরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বুধবার স্ত্রী ও চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লি ইউয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াশিংটনে যান তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে শি জিনপিং ও পেং লি ইউয়ানকে বহনকারী বিমানটি ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাদের স্বাগত জানান। চীনা প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানঘাঁটিতে ছিল বিশেষ আয়োজন। মার্কিন শিশুরা তাদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।

বিছানো হয় লালগালিচা। পরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সামরিক সদস্যরা তাদের গার্ড অব অনার দেন। সামরিক ব্যান্ডে বাজানো হয় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত। এ সময় ২১ বার তোপধ্বনির পাশাপাশি যুদ্ধবিমান উড়িয়ে সম্মান জানানো হয় অতিথিদের। স্বাগত বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ফার্স্ট লেডি পেং লি ইউয়ানকে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তার ভাষায়, শি জিনপিংয়ের এই সফর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন মাটিতে তার আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

এর জবাবে লিখিত বক্তব্যে শি জিনপিং চীনের জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যেও রয়েছে গভীর বন্ধুত্বের ইতিহাস। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশের স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

শি জিনপিংয়ের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগোনো উচিত। চীনা জাতির পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্য এবং ‘আমেরিকাকে আবার মহান করা’র লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বরং দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে এগিয়ে গিয়ে একে অপরকে সহায়তা করতে পারে এবং এর সুফল বিশ্বও পেতে পারে বলে উল্লেখ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের সময় দুই নেতা চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গঠনমূলক ও কৌশলগতভাবে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। তার মতে, ওই সমঝোতা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভিত্তি তৈরি করেছে। শি জিনপিং আরও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

দুই দেশের এমন একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক প্রয়োজন, যেখানে সহযোগিতা হবে মূল ভিত্তি, প্রতিযোগিতা থাকবে নিয়ন্ত্রিত এবং মতপার্থক্যগুলো থাকবে ব্যবস্থাপনার আওতায়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট রাখতে হবে। তার মতে, এ ধরনের সম্পর্কই নতুন যুগে বিশ্বের দুই বৃহৎ দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ তৈরি করতে পারে। চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি ও সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানের ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও যোগাযোগের আকাঙ্ক্ষাও একই রয়েছে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা করে চলেছে। সফরকালে ট্রাম্পের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চান বলেও জানান শি জিনপিং। পাশাপাশি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক ও কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আগ্রহের কথাও জানান চীনা প্রেসিডেন্ট। দুই পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তার সফর ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে এবং বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা পেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

Update Time : 10:39:02 am, Thursday, 24 September 2026

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সফরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বুধবার স্ত্রী ও চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লি ইউয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াশিংটনে যান তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে শি জিনপিং ও পেং লি ইউয়ানকে বহনকারী বিমানটি ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাদের স্বাগত জানান। চীনা প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানঘাঁটিতে ছিল বিশেষ আয়োজন। মার্কিন শিশুরা তাদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।

বিছানো হয় লালগালিচা। পরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সামরিক সদস্যরা তাদের গার্ড অব অনার দেন। সামরিক ব্যান্ডে বাজানো হয় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত। এ সময় ২১ বার তোপধ্বনির পাশাপাশি যুদ্ধবিমান উড়িয়ে সম্মান জানানো হয় অতিথিদের। স্বাগত বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ফার্স্ট লেডি পেং লি ইউয়ানকে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তার ভাষায়, শি জিনপিংয়ের এই সফর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন মাটিতে তার আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

এর জবাবে লিখিত বক্তব্যে শি জিনপিং চীনের জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যেও রয়েছে গভীর বন্ধুত্বের ইতিহাস। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশের স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

শি জিনপিংয়ের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগোনো উচিত। চীনা জাতির পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্য এবং ‘আমেরিকাকে আবার মহান করা’র লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বরং দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে এগিয়ে গিয়ে একে অপরকে সহায়তা করতে পারে এবং এর সুফল বিশ্বও পেতে পারে বলে উল্লেখ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের সময় দুই নেতা চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গঠনমূলক ও কৌশলগতভাবে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। তার মতে, ওই সমঝোতা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভিত্তি তৈরি করেছে। শি জিনপিং আরও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

দুই দেশের এমন একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক প্রয়োজন, যেখানে সহযোগিতা হবে মূল ভিত্তি, প্রতিযোগিতা থাকবে নিয়ন্ত্রিত এবং মতপার্থক্যগুলো থাকবে ব্যবস্থাপনার আওতায়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট রাখতে হবে। তার মতে, এ ধরনের সম্পর্কই নতুন যুগে বিশ্বের দুই বৃহৎ দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ তৈরি করতে পারে। চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি ও সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানের ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও যোগাযোগের আকাঙ্ক্ষাও একই রয়েছে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা করে চলেছে। সফরকালে ট্রাম্পের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চান বলেও জানান শি জিনপিং। পাশাপাশি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক ও কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আগ্রহের কথাও জানান চীনা প্রেসিডেন্ট। দুই পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তার সফর ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে এবং বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হবে।