তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় ৩১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১)-এ বাংলাদেশের কার্যকর ও সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। সভায় কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের সার্বিক প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের অবস্থান নির্ধারণ, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপন, সাইড ইভেন্ট আয়োজন এবং সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কারিগরি সমন্বয় কমিটির প্রথম সভায় বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)-এর আলোচ্যসূচির আলোকে বাংলাদেশের খসড়া পজিশন পেপার প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ন্যায্য রূপান্তর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক কারিগরি প্রতিবেদন ও পলিসি ব্রিফ প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, উন্নয়নশীল দেশ এবং সমমনা রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে যৌথ অবস্থান গ্রহণের সুযোগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কপ-৩১ সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত প্যাভিলিয়নে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি), জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন বাজার, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্যাভিলিয়নের নকশা, ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী উপকরণ, সাইড ইভেন্টের ক্যালেন্ডার ও পরিচালন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মূল জলবায়ু আলোচনায় পর্যাপ্ত ও বিষয়ভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, নতুন ও তরুণ কর্মকর্তাদের আলোচনার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিনিধিদলের নিবন্ধন, ভিসা, যাতায়াত, আবাসন ও স্থানীয় সমন্বয়সহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কপ-৩১কে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কার্যক্রম আরও সুসংহত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ-৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



















