আমার একটাই ছেলে। ও কুমিল্লার আবহাওয়া, কুমিল্লার আকাশের নিচে সকলের ভালোবাসা ও স্নেহে বড় হয়েছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশতবাসী করেন। একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়ে জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে এভাবেই বুকফাটা আর্তনাদ করছিলেন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
মাত্র ১৩ বছর বয়সী কিশোর সন্তানকে চিরতরে বিদায় জানানোর এমন হৃদয়বিদারক মুহূর্তে কান্না ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীরাও। নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
রবিবার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে বিদায়ের পরিবেশ আরও ভারী হয়ে ওঠে। প্রথম জানাজা শেষে বেলা ১১টায় অপ্রতিমের জন্মস্থান কুমিল্লার গন্ধমতি ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের ব্যবহৃত আইফোনটি সঙ্গে নিয়ে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। কিন্তু রাত গড়িয়ে গেলেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পরিবারে। পরবর্তীতে পরিবার ও পুলিশ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। পরদিন শনিবার সকালে লালমাই পাহাড় সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ধারণা, একটি আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই কিশোর অপ্রতিমকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।



















