ছুটির দিনে যখন শহরবাসী বিশ্রামে আচ্ছন্ন, তখন নেত্রকোণার রাজপথে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। সেখানে ঝাড়ু ও কোদাল হাতে শহরের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিজ হাতে পরিষ্কার করতে নেমেছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন হলুদ টি-শার্ট পরিহিত একদল উচ্ছ্বসিত তরুণ, যাদের বুকে লেখাÑ ‘লেটস রিবিল্ড আওয়ার নেশন’। এটি নিছক কোনো গতানুগতিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ছিল না, বরং ডেঙ্গুর মতো ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শহরকে বাঁচাতে শুরু হওয়া এক নতুন সামাজিক জাগরণ। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশজুড়ে চলছে তিন মাসব্যাপী ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’।
তারই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোণা পৌরসভা হাতে নিয়েছে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। গতকাল শনিবার সকালে শহরের পারলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচির দ্বিতীয় সপ্তাহের কার্যক্রম বেশ উৎসবমুখর পরিবেশেই পালিত হয়। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সেতুবন্ধ যেন শহরটিকে নতুন করে সাজানোর সম্মিলিত এক অঙ্গীকার।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান শুধু নিজেই পরিষ্কারের কাজে অংশ নেননি, বরং শহরবাসীকেও এ আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। ডেঙ্গুকে বর্তমান সময়ের একটি ‘বিশাল চ্যালেঞ্জ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শুধু সরকারি দপ্তর বা পৌরসভার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কমিউনিটি বা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
এখন থেকে প্রতি শনিবার শহরের প্রতিটি স্পট পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় আনা হবে। অভিযানে পৌর প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মুনমুন জাহান লিজা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামান, সদর ইউএনও মনিজা খাতুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মূলত ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির সময়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের লক্ষ্য।



















