আজ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৫%

সোনারগাঁয়ে বেহাল সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে পানি, উলটে যায় গাড়ি

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:37:49 am, Monday, 21 September 2026
  • 13

সোনারগাঁয়ে বেহাল সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে পানি, উলটে যায় গাড়ি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সোনারগাঁয়ে সনমান্দী ইউনিয়নের দড়িকান্দী-অলিপুরা সড়ক বেহাল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে কোথাও কোথাও হাঁটুসমান হয়ে যায়।

এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদেরও পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। জানা গেছে, অলিপুরা বাজার থেকে দড়িকান্দী পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। প্রায় ছয় বছর ধরে সড়কটির বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এ পথে চলাচল করছে অটোরিকশা, রিকশা, নসিমন, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ট্রাক।

সড়কের আশপাশে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১০টি মসজিদ, কয়েকটি মাদরাসা, উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় অর্ধলাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সড়কটি ব্যবহার করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গর্তগুলো পানিতে ডুবে আছে।

সড়কের একটি অংশে পানি ঢুকে তিনটি অটোরিকশা বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চালকেরা ধাক্কা দিয়ে ও টেনে সেগুলো গর্ত থেকে তোলার চেষ্টা করছেন। পথচারীরাও বাধ্য হয়ে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। অটোরিকশাচালক নয়ন বলেন, সড়কটির অবস্থা এমনিতেই খারাপ। প্রতিদিন কোনো না কোনো গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাড়ি টেনে নিতে হচ্ছে। আরেক চালক মতিন বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গর্তের কারণে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়। যাত্রীরাও অনেক সময় এই পথে যেতে চান না। গাড়ি মেরামতের পেছনে নিয়মিত অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্ষাকালে পানি জমে পুরো সড়ক অনেকটা ডুবে যায়। বড় যানবাহন চলাচলের সময় দোকানে কাদা-পানি ছিটকে পড়ে। এতে ব্যবসা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক টিক্কা বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সাদিপুর, বারদী, জামপুর ও সনমান্দী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।

বিশেষ করে উপজেলা সদরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, সড়কটির সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে।

বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটির সংস্কারকাজ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোনারগাঁয়ে বেহাল সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে পানি, উলটে যায় গাড়ি

Update Time : 09:37:49 am, Monday, 21 September 2026

সোনারগাঁয়ে সনমান্দী ইউনিয়নের দড়িকান্দী-অলিপুরা সড়ক বেহাল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে কোথাও কোথাও হাঁটুসমান হয়ে যায়।

এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদেরও পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। জানা গেছে, অলিপুরা বাজার থেকে দড়িকান্দী পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। প্রায় ছয় বছর ধরে সড়কটির বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এ পথে চলাচল করছে অটোরিকশা, রিকশা, নসিমন, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ট্রাক।

সড়কের আশপাশে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১০টি মসজিদ, কয়েকটি মাদরাসা, উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় অর্ধলাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সড়কটি ব্যবহার করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গর্তগুলো পানিতে ডুবে আছে।

সড়কের একটি অংশে পানি ঢুকে তিনটি অটোরিকশা বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চালকেরা ধাক্কা দিয়ে ও টেনে সেগুলো গর্ত থেকে তোলার চেষ্টা করছেন। পথচারীরাও বাধ্য হয়ে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। অটোরিকশাচালক নয়ন বলেন, সড়কটির অবস্থা এমনিতেই খারাপ। প্রতিদিন কোনো না কোনো গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাড়ি টেনে নিতে হচ্ছে। আরেক চালক মতিন বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গর্তের কারণে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়। যাত্রীরাও অনেক সময় এই পথে যেতে চান না। গাড়ি মেরামতের পেছনে নিয়মিত অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্ষাকালে পানি জমে পুরো সড়ক অনেকটা ডুবে যায়। বড় যানবাহন চলাচলের সময় দোকানে কাদা-পানি ছিটকে পড়ে। এতে ব্যবসা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক টিক্কা বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সাদিপুর, বারদী, জামপুর ও সনমান্দী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।

বিশেষ করে উপজেলা সদরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, সড়কটির সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে।

বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটির সংস্কারকাজ করা হবে।