আজ রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৪%

রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন, প্রবাস ফেরত যুবকসহ দগ্ধ ৫

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:48:51 am, Sunday, 20 September 2026
  • 9

রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন, প্রবাস ফেরত যুবকসহ দগ্ধ ৫

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক বিবাদের জের ধরে নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের প্রবাস ফেরত এক যুবকসহ মোট পাঁচজন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— সিদ্দিক বেপারী (৬০), তাঁর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগনি তানিয়া আক্তার (২০)। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধরা সবাই শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক ভিটায় পাশাপাশি বসবাস করেন।

আহতদের মধ্যে রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত, ধলু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের স্নাতক (অনার্স) শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার বিবরণ দিয়ে দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, গতকাল শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বললে সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরবে অবস্থানরত তাঁর ভাই ইমনকে জানান। খবর পেয়ে ইমন গতকালই দেশে ফিরে আসেন। সোনিয়া আক্তার আরও জানান, আজ শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন— ‘আমিও মরব, তোদেরকেও মারব’। এই কথা বলেই তিনি নিজ কক্ষে প্রথমে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

পরবর্তীতে সবার গায়ে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে কক্ষে থাকা সবাই দগ্ধ হন। পরে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডক্টর সুলতান মাহমুদ জানান, সূত্রাপুর এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

তিনি জানান, চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধ সবার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন, প্রবাস ফেরত যুবকসহ দগ্ধ ৫

Update Time : 12:48:51 am, Sunday, 20 September 2026

রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক বিবাদের জের ধরে নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের প্রবাস ফেরত এক যুবকসহ মোট পাঁচজন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— সিদ্দিক বেপারী (৬০), তাঁর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগনি তানিয়া আক্তার (২০)। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধরা সবাই শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক ভিটায় পাশাপাশি বসবাস করেন।

আহতদের মধ্যে রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত, ধলু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের স্নাতক (অনার্স) শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার বিবরণ দিয়ে দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, গতকাল শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বললে সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরবে অবস্থানরত তাঁর ভাই ইমনকে জানান। খবর পেয়ে ইমন গতকালই দেশে ফিরে আসেন। সোনিয়া আক্তার আরও জানান, আজ শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন— ‘আমিও মরব, তোদেরকেও মারব’। এই কথা বলেই তিনি নিজ কক্ষে প্রথমে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

পরবর্তীতে সবার গায়ে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে কক্ষে থাকা সবাই দগ্ধ হন। পরে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডক্টর সুলতান মাহমুদ জানান, সূত্রাপুর এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

তিনি জানান, চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধ সবার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।