নরসিংদী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট्र্রেট হিসেবে ইসরাত জাহান কেয়া মাত্র ৫ মাস আগে যোগদান করেন। তিনি চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ২২তম জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এ জেলায় তিনি দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক।
এ সময়ের মধ্যেই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। ইসরাত জাহান কেয়া মনে করেন, প্রতিটি মানুষ যদি তার স্বীয় কর্মকে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে আন্তরিকতার সাথে সর্বোচ্চ নিপুণভাবে সম্পন্ন করেন তবে তা অবশ্যই প্রশংসিত হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, আমি অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় কোনো কাজ করি না।
আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব, নীতি এবং আদর্শের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সৃজনশীলতা ও আন্তরিকতা দিয়ে করার চেষ্টা করি। এতে যদি কোনো প্রাপ্তি এসে যায় নিশ্চয়ই তা আমাকে প্রেরণা জোগায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বখ্যাত অন্ধ লেখিকা হেলেন কেলার আমাদের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আমি অন্ধ, তোমরা যারা দেখতে পাও তাদের একটা কথা আমি বলে যেতে চাই, চোখ দুটোকে তোমরা এমনভাবে ব্যবহার করো যেন আগামীকালই তুমি অন্ধ হয়ে যাবে, আর দেখবে না।
তোমার অপর সব ইন্দ্রিয়ের বেলায়ও এমন করেই ভাবতে শেখো। হেলেন কেলারের এই উক্তিগুলোর মতোই যদি যেকোনো কাজে ইচ্ছে শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করি, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে স্বীয় কর্মকে সম্পন্ন করা যায় নিশ্চয়ই প্রশংসিত হবে। ইসরাত জাহান কেয়া ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তার বাবার নাম মো. মাহাবুব আলী। পারিবারিক ঐতিহ্যগত কারণেই ইসরাত জাহান কেয়া জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনায় বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ী ও স্বপ্নচারী নারী। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স মাস্টার ডিগ্রি লাভ করেন। ইসরাত জাহান কেয়া ২৮তম ব্যাচে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন।
জেলা প্রশাসক নরসিংদী হিসেবে পদায়ন হওয়ার আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ইসরাত জাহান কেয়া নরসিংদীতে যোগদানের পর থেকে মানবিক কাজের জন্য প্রসংসিত হন। এর মধ্যে রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পূর্বেরচর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধা হারেছা বেগমের (৭০) পরিবারের ৬ জন সদস্যই প্রতিবন্ধী।
এ পরিবারটির দূরবস্থার কথা চিন্তা করে ডিসি ইসরাত জাহান কেয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করেন এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়াশোনা করার জন্য আসবাবপত্র ও একটি গাভী প্রদান করেন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করেন। ইতিমধ্যে তাদের তিনজনের চোখের চিকিৎসাও প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও এনজিও প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের আর্থিক সহযোগিতায় একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নরসিংদী-৫ রায়পুরা থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল পরিবারটিকে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইমরান নামে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে একটি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়।
এদিকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত মো. সুজন মিয়ার পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। ইসরাত জাহান কেয়া প্রতি বুধবার দিনব্যাপী গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিয়ে দ্রুত সমাধান করেন।
এ ছাড়া ফুলকুঁড়ি স্পোটর্স ২০২৬, মাদকমুক্ত নরসিংদী গড়া, রাস্তাঘাট নির্মাণ, কিশোরগ্যাং মুক্ত নরসিংদী, ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ, যানজট নিরসন, চিকিৎসা ব্যবস্থা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেনতা বৃদ্ধি ও পরিষ্কার পরিচ্ছনতার ওপর গুরুত্বারোপ, অবৈধ গ্যাস, বিদ্যুৎ, ভেজাল খাদ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ভূমি সেবার উন্নয়ন এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতিকে চিরস্বরণীয় করে রাখতে নান্দনিক স্মৃতি মুর‌্যাল নির্মাণসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে সর্বমহলে প্রশংসায় ভাসছেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।



















