হেঁটে হেঁটেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সেলিনা খাতুন (৩৫)। জরায়ুর পাশে থাকা টিউমারের অস্ত্রোপচার হলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন এমনটাই আশা ছিল পরিবারের। কিন্তু অস্ত্রোপচারের মাত্র দুই ঘণ্টা পরই সেই আশা পরিণত হয় শোকে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর শহরের মডার্ণ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু হয় সেলিনার। স্বামীর অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারের কারণেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অস্ত্রোপচারে কোনো ভুল হয়নি; হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নিহত সেলিনা খাতুন চৌগাছা পৌরসভার মডেলপাড়া এলাকার সাইদুল হক সাইদের স্ত্রী।
তিনি জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সদস্য। সংস্থাটির মাধ্যমে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়ার পর শনিবার সকালে তাকে মডার্ণ হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, জরায়ুর পাশে টিউমারে আক্রান্ত হয়ে সেলিনা কিছুদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মডার্ণ হসপিটালে তার অস্ত্রোপচার করেন গাইনী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম।
অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই ঘণ্টা পরই তার মৃত্যু হয়। সেলিনার স্বামী সাইদুল হক বলেন, আমার স্ত্রী হেঁটে হাসপাতালে এসেছিলেন। সকালে ভর্তি করলাম, বিকেলে অপারেশন হলো। অথচ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন। ডাক্তারের ভুল অস্ত্রোপচারের কারণেই আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. রবিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারে কোনো ভুল ছিল না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেলিনার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। অস্ত্রোপচারে ভুল থাকলে তিনি অপারেশন টেবিলেই মারা যেতেন। এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, মডার্ণ হসপিটালে ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। রোববার খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















