আজ রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৪%

নজরদারিতে শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:15:01 am, Sunday, 20 September 2026
  • 12

নজরদারিতে শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন ও ঝটিকা মিছিলসহ অনলাইন-অফলাইন রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় পুলিশ বাহিনীর ঢিলেমি বা গাফিলতিতে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সরকারি ও বিরোধীদলগুলো বাহিনীটির কর্মকাণ্ডের ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মতে, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পলাতক নেতা ও সাবেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এখনো গোপন যোগাযোগের কারণে বর্তমানে চাকরিতে থাকা কয়েকশ পুলিশ কর্মকর্তা নজরদারিতে রয়েছেন। নতুন করে এজাতীয় কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করে তাদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে গুলশানে আ.লীগের মিছিল-পরবর্তী অ্যাকশন হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পর এবার একই জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসাইনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই আদেশে আরও তিনজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্বে রদবদল আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নজরদারিতে থাকার পাশাপাশি ইতিমধ্যে পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল, বাধ্যতামূলক অবসর এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার বা পুলিশ বা ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার মতো ঘটনা ঘটছে।

উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি সরকার ও বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ডিএমপির একাধিক থানার ওসি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাশকতা রুখতে, পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপকর্ম রোধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ‘শুদ্ধি অভিযান’ বা অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বাহিনীতে যারা অপকর্মে জড়িত, তাদের তালিকা করে গোপন তদন্ত চলমান রয়েছে। ওসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে, এতে কয়েকশ সদস্যের নাম রয়েছে, তালিকায় নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুদ্ধি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের আচরণে পেশাদারিত্ব আনা।

সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে একটি আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বা নিষ্ঠুরতা রোধ করা। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ও পদায়ন পাওয়া পুলিশ সদস্যদের একটি অংশ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। অনেকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের কাছে অভিযানের আগাম তথ্য পাচার এবং তাদের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

কারো কারো বিরুদ্ধে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগেরও অভিযোগ ওঠে। পুলিশ প্রশাসন এসব অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়িয়েছে। রাকিবুল হাসানের অডিও প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ শাসনামলে সুবিধা পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেসব পুলিশ সদস্য সরকার ও বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চব্বিশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশে আসে ব্যাপক রদবদল। আন্দোলনকালে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণের অভিযোগে সে সময় আইজিপিসহ বাহিনীটির অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আবার কেউ দেশের ভেতরেই আছেন আত্মগোপনে।

আবার শতাধিক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক অবসরে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান সরকার ক্ষমতায় আসার পুলিশের শীর্ষপদসহ ব্যাপক রদবদল হয়। এ সময়েও গ্রেপ্তার হয়েছে অনেকে, পাশাপাশি বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ১৪১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক থাকার অভিযোগে ৯৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বা এত কিছুর পরও পুলিশে তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। তারপরও বর্তমান আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতনরা পুলিশের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার এসপিদের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠানো হচ্ছে। তবুও পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। বাহিনীর অনেক কর্মকর্তার মতে, আওয়ামী ভূত এখনো যায়নি।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন-সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের সংখ্যাই বেশি। মূলত তারাই পুলিশ বাহিনীকে শৃঙ্খল হতে দিচ্ছে না। আগামী ডিসেম্বরে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন, এমন বিশ্বাসও অনেকের মধ্যে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে প্রমাণ মিলেছে— পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও চাকরিচ্যুত বা আত্মগোপনে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং তথ্য পাচারের অভিযোগে কয়েকশ পুলিশ সদস্য গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন।

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রভাবশালী চক্রের এই সদস্যরা এখনো বাহিনীতে সক্রিয় থেকে বাহিনীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও অভিযানের আগাম তথ্য পাচার করছেন। ভেতরের হুমকি মোকাবিলায় সরকার বিশেষ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স টিম গঠন করেছে। বিশেষ টিমের কাজ হচ্ছে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য তথ্য পাচার কিংবা সাবেক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও তৎপরতার পেছনে পুলিশের একাংশের সঙ্গে গোপন আঁতাত বা অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করার তথ্যও পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তৈরি করে তাদের মাঠ পর্যায়ের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নন-অপারেশনাল বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হচ্ছে।

চলতি মাসে পুলিশের শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জমা একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যরা ঘাপটি মেরে আছেন। নানা রকম অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। বিশেষ করে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতা এবং পুলিশ সদস্যদের কাছে তথ্য পাচার ও গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

বর্তমান সরকার ও পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করা ও বেকায়দায় ফেলতে তৎপর তারা। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হাজার হাজার পুলিশ সদস্য পেশাদার অপরাধীর মতোই মাদক কারবার, চাঁদাবাজি করছেন। যানবাহন থামিয়ে ‘উপরি’ উঠাচ্ছেন। পুলিশের পোশাক পরেই তারা করছেন এসব অপকর্ম। মাঝেমধ্যে ধরাও পড়ছেন দু-চারজন, বাকিরা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পুলিশের বা গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে দেখা যায়, বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বা দুর্নাম করতে আওয়ামী পুলিশ অপকর্ম করে যাচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সুবিধা পাওয়া একদল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পলাতক নেতাদের তথ্য পাচার ও যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর এই অভ্যন্তরীণ নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একাংশের উদাসীনতা ও ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামী লীগের মিছিল বা বিশৃঙ্খলা হলে সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি এবং থানার ওসিকে এর পূর্ণ দায় নিতে হবে। ডিএমপির দায়িত্বরত একাধিক ডিসি এবং ওসিরা জানিয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে চাপে রয়েছেন পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কোনো এলাকায় এ ধরনের মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এলাকার উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) দায় নিতে হবে— ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন নির্দেশনার পর পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় সম্ভাব্য মিছিল, জমায়েত ও অপতৎপরতার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ধরপাকড় ও নজরদারি বাড়ানোর পরও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। নতুন করে ধরপাকড় ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে পুলিশের চেকপোস্ট ও টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, ডিবি ও সিটিটিসিসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের সঙ্গে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ ও বিপ্লব কুমার সরকারের গোপন যোগাযোগ এবং তথ্য পাচারের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে অপরাধের প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। রাকিবুল হাসান রাকিব আগে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা ও কুমারখালী থানায় কর্মরত ছিলেন। তখন বিএনপিসহ বিরোধী দল দমনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে আতশবাজি ফোটানো ও কেক কাটতেও দেখা যায়।

৫ আগস্টের পর রাকিবুল হাসানকে ডিএমপির ভাটারা থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরে তিনি গুলশান থানার ওসি হন। সর্বশেষ তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানের একটি বিতর্কিত অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত করা হয়।

ভাইরাল হওয়া ওই অডিওর সত্যতা ও পারিপার্শ্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে ডিএমপির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। অডিও ক্লিপটিতে সরকারের কার্যক্রম, পুলিশের মাঠ পর্যায়ের দুর্বলতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ফেরা নিয়ে কিছু মন্তব্য শোনা যায়।

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পর এবার একই জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসাইনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই আদেশে আরও তিনজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্বে রদবদল আনা হয়েছে। গতকাল শনিবার ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামের পাশে উল্লিখিত পদে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালিসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলামকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিরপুর জোন), মিরপুর বিভাগে বদলি করা হয়েছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিরপুর জোন), মিরপুর বিভাগের ফারজিনা নাসরিনকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পূরবী জোনাল টিম), গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগে বদলি হয়েছেন।

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ক্রিমিনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন) মোহাম্মদ আমিনুল হক রাহীকে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ থেকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গুলশান জোন), গুলশান বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আ.লীগের কথিত লকডাউন কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

নজরদারিতে শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা

Update Time : 12:15:01 am, Sunday, 20 September 2026

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন ও ঝটিকা মিছিলসহ অনলাইন-অফলাইন রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় পুলিশ বাহিনীর ঢিলেমি বা গাফিলতিতে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সরকারি ও বিরোধীদলগুলো বাহিনীটির কর্মকাণ্ডের ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মতে, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পলাতক নেতা ও সাবেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এখনো গোপন যোগাযোগের কারণে বর্তমানে চাকরিতে থাকা কয়েকশ পুলিশ কর্মকর্তা নজরদারিতে রয়েছেন। নতুন করে এজাতীয় কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করে তাদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে গুলশানে আ.লীগের মিছিল-পরবর্তী অ্যাকশন হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পর এবার একই জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসাইনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই আদেশে আরও তিনজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্বে রদবদল আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নজরদারিতে থাকার পাশাপাশি ইতিমধ্যে পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল, বাধ্যতামূলক অবসর এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার বা পুলিশ বা ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার মতো ঘটনা ঘটছে।

উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি সরকার ও বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ডিএমপির একাধিক থানার ওসি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাশকতা রুখতে, পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপকর্ম রোধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ‘শুদ্ধি অভিযান’ বা অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বাহিনীতে যারা অপকর্মে জড়িত, তাদের তালিকা করে গোপন তদন্ত চলমান রয়েছে। ওসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে, এতে কয়েকশ সদস্যের নাম রয়েছে, তালিকায় নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুদ্ধি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের আচরণে পেশাদারিত্ব আনা।

সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে একটি আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বা নিষ্ঠুরতা রোধ করা। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ও পদায়ন পাওয়া পুলিশ সদস্যদের একটি অংশ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। অনেকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের কাছে অভিযানের আগাম তথ্য পাচার এবং তাদের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

কারো কারো বিরুদ্ধে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগেরও অভিযোগ ওঠে। পুলিশ প্রশাসন এসব অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়িয়েছে। রাকিবুল হাসানের অডিও প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ শাসনামলে সুবিধা পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেসব পুলিশ সদস্য সরকার ও বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চব্বিশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশে আসে ব্যাপক রদবদল। আন্দোলনকালে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণের অভিযোগে সে সময় আইজিপিসহ বাহিনীটির অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আবার কেউ দেশের ভেতরেই আছেন আত্মগোপনে।

আবার শতাধিক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক অবসরে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান সরকার ক্ষমতায় আসার পুলিশের শীর্ষপদসহ ব্যাপক রদবদল হয়। এ সময়েও গ্রেপ্তার হয়েছে অনেকে, পাশাপাশি বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ১৪১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক থাকার অভিযোগে ৯৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বা এত কিছুর পরও পুলিশে তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। তারপরও বর্তমান আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতনরা পুলিশের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার এসপিদের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠানো হচ্ছে। তবুও পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। বাহিনীর অনেক কর্মকর্তার মতে, আওয়ামী ভূত এখনো যায়নি।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন-সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের সংখ্যাই বেশি। মূলত তারাই পুলিশ বাহিনীকে শৃঙ্খল হতে দিচ্ছে না। আগামী ডিসেম্বরে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন, এমন বিশ্বাসও অনেকের মধ্যে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে প্রমাণ মিলেছে— পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও চাকরিচ্যুত বা আত্মগোপনে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং তথ্য পাচারের অভিযোগে কয়েকশ পুলিশ সদস্য গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন।

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রভাবশালী চক্রের এই সদস্যরা এখনো বাহিনীতে সক্রিয় থেকে বাহিনীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও অভিযানের আগাম তথ্য পাচার করছেন। ভেতরের হুমকি মোকাবিলায় সরকার বিশেষ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স টিম গঠন করেছে। বিশেষ টিমের কাজ হচ্ছে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য তথ্য পাচার কিংবা সাবেক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও তৎপরতার পেছনে পুলিশের একাংশের সঙ্গে গোপন আঁতাত বা অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করার তথ্যও পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তৈরি করে তাদের মাঠ পর্যায়ের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নন-অপারেশনাল বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হচ্ছে।

চলতি মাসে পুলিশের শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জমা একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যরা ঘাপটি মেরে আছেন। নানা রকম অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। বিশেষ করে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতা এবং পুলিশ সদস্যদের কাছে তথ্য পাচার ও গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

বর্তমান সরকার ও পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করা ও বেকায়দায় ফেলতে তৎপর তারা। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হাজার হাজার পুলিশ সদস্য পেশাদার অপরাধীর মতোই মাদক কারবার, চাঁদাবাজি করছেন। যানবাহন থামিয়ে ‘উপরি’ উঠাচ্ছেন। পুলিশের পোশাক পরেই তারা করছেন এসব অপকর্ম। মাঝেমধ্যে ধরাও পড়ছেন দু-চারজন, বাকিরা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পুলিশের বা গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে দেখা যায়, বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বা দুর্নাম করতে আওয়ামী পুলিশ অপকর্ম করে যাচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সুবিধা পাওয়া একদল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পলাতক নেতাদের তথ্য পাচার ও যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর এই অভ্যন্তরীণ নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একাংশের উদাসীনতা ও ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামী লীগের মিছিল বা বিশৃঙ্খলা হলে সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি এবং থানার ওসিকে এর পূর্ণ দায় নিতে হবে। ডিএমপির দায়িত্বরত একাধিক ডিসি এবং ওসিরা জানিয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে চাপে রয়েছেন পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কোনো এলাকায় এ ধরনের মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এলাকার উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) দায় নিতে হবে— ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন নির্দেশনার পর পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় সম্ভাব্য মিছিল, জমায়েত ও অপতৎপরতার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ধরপাকড় ও নজরদারি বাড়ানোর পরও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। নতুন করে ধরপাকড় ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে পুলিশের চেকপোস্ট ও টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, ডিবি ও সিটিটিসিসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের সঙ্গে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ ও বিপ্লব কুমার সরকারের গোপন যোগাযোগ এবং তথ্য পাচারের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে অপরাধের প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। রাকিবুল হাসান রাকিব আগে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা ও কুমারখালী থানায় কর্মরত ছিলেন। তখন বিএনপিসহ বিরোধী দল দমনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে আতশবাজি ফোটানো ও কেক কাটতেও দেখা যায়।

৫ আগস্টের পর রাকিবুল হাসানকে ডিএমপির ভাটারা থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরে তিনি গুলশান থানার ওসি হন। সর্বশেষ তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানের একটি বিতর্কিত অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত করা হয়।

ভাইরাল হওয়া ওই অডিওর সত্যতা ও পারিপার্শ্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে ডিএমপির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। অডিও ক্লিপটিতে সরকারের কার্যক্রম, পুলিশের মাঠ পর্যায়ের দুর্বলতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ফেরা নিয়ে কিছু মন্তব্য শোনা যায়।

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পর এবার একই জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসাইনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই আদেশে আরও তিনজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্বে রদবদল আনা হয়েছে। গতকাল শনিবার ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামের পাশে উল্লিখিত পদে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালিসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলামকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিরপুর জোন), মিরপুর বিভাগে বদলি করা হয়েছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিরপুর জোন), মিরপুর বিভাগের ফারজিনা নাসরিনকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পূরবী জোনাল টিম), গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগে বদলি হয়েছেন।

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ক্রিমিনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন) মোহাম্মদ আমিনুল হক রাহীকে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ থেকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গুলশান জোন), গুলশান বিভাগে বদলি করা হয়েছে।