কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ফারহানা ইয়াসমিন তমা (২০) নামে এক তরুণীর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির কাছে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তমার মৃত্যু হয়। তিনি ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশিপাড়া গ্রামের তোজাম্মল হকের মেয়ে। মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে চাচার বিয়ের কেনাকাটা ও সাজসজ্জার জন্য তমা গোলাপনগর বাজারের শেলী কসমেটিক অ্যান্ড বিউটি পার্লারে যান।
সেখানে কেনাকাটা ও ফেসিয়াল শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বের হন। এরপর তাঁর মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, পাশের গ্রামের শাহিন আলীর ছেলে রাসেল (৩৩) তমাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে করে বিলের মাঠের দিকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মারধর করা হয়। পরে রাসেল তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির কাছাকাছি রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যান বলে পরিবারের দাবি।
পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তমাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তমার বাবা তোজাম্মল হক (৫৫) গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে মো. বক্কর ও রাসেলের নাম উল্লেখ করে আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে গোলাপনগর বাঙালপাড়া এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. বক্করের (৩৫) সঙ্গে তমার বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তবে তমার সাবেক স্বামী বক্করের পরিবারের সদস্যরা তমার বিরুদ্ধে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন। এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
গোলাপনগর বাজারের শেলী কসমেটিক অ্যান্ড বিউটি পার্লারের মালিক শেলী আহমেদ বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে তমা তাঁর দোকানে এসেছিলেন। ফেসিয়াল ও কেনাকাটা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি দোকান থেকে বের হন। এ সময় তমাকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা গেছে। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে তমাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি তমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। ভিকটিমের নানী দাবি করছেন, তমা তাঁকে ধর্ষণের কথা জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ঘটনার পর তমার বাবা থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন, সেখানে ধর্ষণের কোনো উল্লেখ নেই। ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। তমার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



















