আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৮%

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:09:25 am, Saturday, 19 September 2026
  • 14

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ক্ষেত্রে সিএনএন, এমএসএনবিসি ও সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট পলিটিকোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের প্রশাসন নিয়ে এসব সংবাদমাধ্যম ভুয়া খবর প্রকাশ করছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অবিলম্বে কার্যকরভাবে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারকারী সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম নিয়মিতভাবে তার প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে পলিটিকোকে সচল রাখতে মার্কিন সরকার প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের ‘সাবস্ক্রিপশন’ কিনেছিল। এ ঘটনাকে তিনি ‘দুর্নীতি’ বলে মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তার প্রশাসন কিংবা দেশ সম্পর্কে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কোনো সংবাদমাধ্যমের নিয়মিতভাবে মিথ্যা বা কল্পিত তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।

একই ধরনের সংবাদ প্রচার অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ‘সত্য ও সৎ সাংবাদিকতা প্রয়োজন’ পরে ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকার পরও তিনি কীভাবে এমন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন।

জবাবে ট্রাম্প আবারও ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, মানুষ বারবার ভুয়া খবর পড়তে বা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সৎ, নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতাও প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো যদি তাদের সংবাদ পরিবেশনের মান উন্নত করে, তাহলে তিনি চান তারা আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসুক।

তার অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে তার প্রশাসন সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে এবং এর মাধ্যমে রিপাবলিকান ও রিপাবলিকান প্রশাসনকে দুর্বলভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ভালো কাজ করেছে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তার পক্ষে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ প্রবেশ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে এমএসএনবিসি ও পলিটিকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে থাকা সিএনএন শুক্রবার তাদের সাংবাদিকদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন জানায়, হোয়াইট হাউস কাভার করা তাদের সাংবাদিকদের দল নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য কাজ করছে। সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই এ ধরনের সাংবাদিকতা করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তাদের দিয়েছে বলেও উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি।

সিএনএনের ভাষ্য, ট্রাম্প ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা সংবাদমাধ্যমের মৌলিক ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ ও লাখো মানুষের সমাগম

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

Update Time : 09:09:25 am, Saturday, 19 September 2026

হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ক্ষেত্রে সিএনএন, এমএসএনবিসি ও সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট পলিটিকোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের প্রশাসন নিয়ে এসব সংবাদমাধ্যম ভুয়া খবর প্রকাশ করছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অবিলম্বে কার্যকরভাবে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারকারী সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম নিয়মিতভাবে তার প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে পলিটিকোকে সচল রাখতে মার্কিন সরকার প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের ‘সাবস্ক্রিপশন’ কিনেছিল। এ ঘটনাকে তিনি ‘দুর্নীতি’ বলে মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তার প্রশাসন কিংবা দেশ সম্পর্কে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কোনো সংবাদমাধ্যমের নিয়মিতভাবে মিথ্যা বা কল্পিত তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।

একই ধরনের সংবাদ প্রচার অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ‘সত্য ও সৎ সাংবাদিকতা প্রয়োজন’ পরে ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকার পরও তিনি কীভাবে এমন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন।

জবাবে ট্রাম্প আবারও ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, মানুষ বারবার ভুয়া খবর পড়তে বা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সৎ, নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতাও প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো যদি তাদের সংবাদ পরিবেশনের মান উন্নত করে, তাহলে তিনি চান তারা আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসুক।

তার অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে তার প্রশাসন সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে এবং এর মাধ্যমে রিপাবলিকান ও রিপাবলিকান প্রশাসনকে দুর্বলভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ভালো কাজ করেছে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তার পক্ষে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ প্রবেশ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে এমএসএনবিসি ও পলিটিকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে থাকা সিএনএন শুক্রবার তাদের সাংবাদিকদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন জানায়, হোয়াইট হাউস কাভার করা তাদের সাংবাদিকদের দল নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য কাজ করছে। সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই এ ধরনের সাংবাদিকতা করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তাদের দিয়েছে বলেও উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি।

সিএনএনের ভাষ্য, ট্রাম্প ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা সংবাদমাধ্যমের মৌলিক ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।