আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৫%

কম দামে গাড়ি দিতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দাবি বারভিডার

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:45:48 am, Sunday, 13 September 2026
  • 14

কম দামে গাড়ি দিতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দাবি বারভিডার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা নয়, অর্থনীতির স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দাবি করেছে সংগঠনটি। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় বারভিডা। মানববন্ধনে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজুর রহমান, সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী খসরু, হাবিবুল্লাহ ডন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলামসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের তুলনামূলক কম দামে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হবে। তিনি বলেন, নতুন ইভির দাম এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে এলে সাধারণ মানুষের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারও বাড়বে।

বারভিডা জানায়, বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি আমদানি করা গাড়ির ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথাও জানিয়েছে বারভিডা।

একই সঙ্গে বন্যা, অগ্নিকা-, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, নিয়ন্ত্রিতভাবে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশে চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি ইভি প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বারভিডা আরও বলছে, ইভির ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্য অর্জনেও এটি সহায়ক হতে পারে। ব্যবহৃত ইভি ব্যাটারির নিরাপদ সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তির জন্য ‘ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও সেফ ডিসপোজাল ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং ও ব্যাটারি রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগে শুল্ক-কর প্রণোদনা অব্যাহত রাখারও দাবি জানানো হয়েছে। সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, ‘নীতিমালায় নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি উন্মুক্ত রাখা হলেও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বৈষম্যমূলক। আমরা নতুন ও রিকন্ডিশন্ড দুই ধরনের ইভি আমদানির সুযোগ চাই।

এতে ক্রেতারাই সিদ্ধান্ত নেবেন তারা নতুন গাড়ি কিনবেন, নাকি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। ’ তিনি বলেন, ‘সরকারের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে আমরা অংশীদার হতে চাই এবং আরও বেশি রাজস্ব দিতে চাই। তাই প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত করুন।

’ বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু বলেন, ‘আমরা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছি না। এই শিল্পের জন্য আমাদের চাওয়া বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যৎমুখী নীতি। একটি নিষেধাজ্ঞা বাজারকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একটি সঠিক নীতি একটি শিল্পকে গড়ে তুলতে পারে। ’ এ সময় বারভিডার পক্ষ থেকে আমদানিনীতির সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের আহ্বান জানান সংগঠনটির মহাসচিব রিয়াজুর রহমান।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কম দামে গাড়ি দিতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দাবি বারভিডার

Update Time : 08:45:48 am, Sunday, 13 September 2026

ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা নয়, অর্থনীতির স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দাবি করেছে সংগঠনটি। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় বারভিডা। মানববন্ধনে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজুর রহমান, সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী খসরু, হাবিবুল্লাহ ডন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলামসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের তুলনামূলক কম দামে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হবে। তিনি বলেন, নতুন ইভির দাম এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে এলে সাধারণ মানুষের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারও বাড়বে।

বারভিডা জানায়, বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি আমদানি করা গাড়ির ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথাও জানিয়েছে বারভিডা।

একই সঙ্গে বন্যা, অগ্নিকা-, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, নিয়ন্ত্রিতভাবে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশে চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি ইভি প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বারভিডা আরও বলছে, ইভির ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্য অর্জনেও এটি সহায়ক হতে পারে। ব্যবহৃত ইভি ব্যাটারির নিরাপদ সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তির জন্য ‘ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও সেফ ডিসপোজাল ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং ও ব্যাটারি রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগে শুল্ক-কর প্রণোদনা অব্যাহত রাখারও দাবি জানানো হয়েছে। সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, ‘নীতিমালায় নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি উন্মুক্ত রাখা হলেও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বৈষম্যমূলক। আমরা নতুন ও রিকন্ডিশন্ড দুই ধরনের ইভি আমদানির সুযোগ চাই।

এতে ক্রেতারাই সিদ্ধান্ত নেবেন তারা নতুন গাড়ি কিনবেন, নাকি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। ’ তিনি বলেন, ‘সরকারের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে আমরা অংশীদার হতে চাই এবং আরও বেশি রাজস্ব দিতে চাই। তাই প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত করুন।

’ বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু বলেন, ‘আমরা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছি না। এই শিল্পের জন্য আমাদের চাওয়া বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যৎমুখী নীতি। একটি নিষেধাজ্ঞা বাজারকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একটি সঠিক নীতি একটি শিল্পকে গড়ে তুলতে পারে। ’ এ সময় বারভিডার পক্ষ থেকে আমদানিনীতির সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের আহ্বান জানান সংগঠনটির মহাসচিব রিয়াজুর রহমান।