আজ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৪%

নাটোরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:44:09 pm, Sunday, 6 September 2026
  • 12

নাটোরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নাটোরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া আদায়কৃত জরিমানার টাকা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শারমিন আখতার এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের মো. আবু হানিফের ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের ইমরান আলীর মেয়ে মোছা. মরিয়ম (৭) স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। মরিয়ম স্থানীয় কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী। মেয়েটি বিজয়নগর গ্রামস্থ করবী মাদ্রাসার পাশের গলিতে পৌঁছালে আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে মাদ্রাসার একটি কক্ষের ভেতর নিয়ে যায়।

সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর শিশুটি কান্নাকাটি করে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে ভিকটিমের বাবা মো. ইমরান আলী (৩৫) বাদী হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারিই সিংড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২০)-এর ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম।

তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ভিকটিম, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি-তর্ক শুনানি সম্পন্ন করেন। আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

রায়ে বিচারক নির্দেশ দেন যে, আসামির নিকট থেকে আদায়কৃত ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটিকে দেওয়া হবে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামির পূর্বে ভোগকৃত হাজতবাসের সময়সূচি মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নবনিযুক্ত সচিবের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নাটোরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Update Time : 04:44:09 pm, Sunday, 6 September 2026

নাটোরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া আদায়কৃত জরিমানার টাকা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শারমিন আখতার এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের মো. আবু হানিফের ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের ইমরান আলীর মেয়ে মোছা. মরিয়ম (৭) স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। মরিয়ম স্থানীয় কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী। মেয়েটি বিজয়নগর গ্রামস্থ করবী মাদ্রাসার পাশের গলিতে পৌঁছালে আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে মাদ্রাসার একটি কক্ষের ভেতর নিয়ে যায়।

সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর শিশুটি কান্নাকাটি করে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে ভিকটিমের বাবা মো. ইমরান আলী (৩৫) বাদী হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারিই সিংড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২০)-এর ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম।

তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ভিকটিম, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি-তর্ক শুনানি সম্পন্ন করেন। আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

রায়ে বিচারক নির্দেশ দেন যে, আসামির নিকট থেকে আদায়কৃত ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটিকে দেওয়া হবে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামির পূর্বে ভোগকৃত হাজতবাসের সময়সূচি মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।