বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সামরিক প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি-এর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ। বৈঠকে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও কোর্স বিনিময় আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিসি)-এর সঙ্গে সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় সামরিক একাডেমিগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি মানবিক সংকট মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুই দেশের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের বিষয়েও উভয় পক্ষ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নিয়মিত সফর বিনিময়ের মাধ্যমে বিদ্যমান কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী ও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।
সাক্ষাৎকালে সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সামগ্রিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও নিবিড়, সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



















