মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের ফাঁসির রায় বহাল রাখায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে তার পরিবার। এ সময় রায়টি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আছিয়ার মা ও গ্রামবাসী।
আছিয়ার এলাকার এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমরা রায়ের খবর শুনে খুশি হলাম। রায় হয়েছে, এখন ফাঁসি হয়ে যাক, এটাই আমরা চাই।’
আরেক বৃদ্ধ বলেন, ‘রায় হওয়ায় আমরা খুশি। আমরা চাই দ্রুত এই ফাঁসি কার্যকর হোক।
আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘তাদের এমনভাবে ফাঁসি দিক, যাতে গোটা পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারে যে সরকার বিচার করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যেন কেউ ক্ষতি করতে না পারে সেটা আমরা চাই। আমার আরেকটা ১১ বছরের বাচ্চা স্কুলে যায়, আমার অনেকটা ভয়ই করে।’
আজ সোমবার দুপুরে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, মামলার আসামি হিটু শেখের স্বীকারোক্তি এবং ডিএনএ রিপোর্ট এই মৃত্যুদণ্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।
এর আগে, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ২৫ আগস্ট মামলায় রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করে হাইকোর্ট। মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষ হয় ২৪ আগস্ট।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি, আছিয়ার বড় বোনের শ্বশুর আসামি হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মেডিকেল রিপোর্টসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে, আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ৩ আসামিকে খালাস দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৫ সালের ৬ মার্চ মাগুরারনিজনান্দুয়ালী গ্রামে বেড়াতে গেলে ৮ বছরের আছিয়াকে ধর্ষণ করে বড় বোনের শ্বশুর হিটু শেখ।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে আছিয়াকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল এবং পরে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আছিয়া।



















