সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোরের শার্শার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে ওই টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রবাসীর বাবা, ছেলে ও এক স্বজনকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার বসতপুর গ্রামের শাহাজান মোল্যা (৬০)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহাজান মোল্যার ছেলে আবু রায়হান রিপনকে সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি একই গ্রামের শাহাজালালের সঙ্গে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা পরিশোধের পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রিপনকে তিন মাসের টুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে যাওয়ার পর রিপনকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময় কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় ছয় মাসেও কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন শাহাজান মোল্যা।
পরে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে পাওনা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত চাইতে গেলে শাহাজান মোল্যার সঙ্গে অভিযুক্ত শাহাজালাল, আল আমিন, শাহাজালালের স্ত্রী হাসিনা খাতুন ও তাদের সঙ্গে থাকা কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার হেফাজউদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহাজান মোল্যা, তার ছেলে রিপন ও সঙ্গে থাকা আলাউদ্দিনকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রিপনকে ভর্তি করা হয় এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ ছাড়া টাকা ফেরত না দেওয়ার পাশাপাশি শাহাজান মোল্যাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে শাহাজালালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি রিপনকে সৌদি নিয়ে গেছেন।
সেখানে কাজ না পেলে তার করার কিছু নেই। রিপন অপেক্ষা না করে দেশে ফিরে এসেছেন। তার পক্ষে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি, শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























