আজ শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

রাশিয়ার আমুরে জাকিরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:36:20 pm, Saturday, 29 August 2026
  • 14

রাশিয়ার আমুরে জাকিরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাশিয়ার আমুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত জাকির হোসেনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় বাড়িতে চলছে মা ও স্ত্রীর বুকফাটা আর্তনাদ। কোনোভাবেই থামছে না স্বজনদের আহাজারি। ২৮ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে গেছে বাতাস। পরিবারের বড় ছেলের অপেক্ষায় মা। যাকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পাঠিয়েছিলেন দূর প্রবাস রাশিয়ায়। ছেলের মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণ তো হয়ই নি বরং ছেলেকে পাঠানো ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন কীভাবে ও চার বছরের কন্যাসন্তানকে কি বলে সান্ত্বনা দেবেন সেই ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন জাকিরের মা রোকেয়া বেগম। নিহত জাকির কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের বড় বাড়ির নিহত রতন মিয়ার ছেলে।

নিহতের ভাই নূরে আলম বলেন, পরিবারের স্বচ্ছতা ফেরাতে দেড় বছর আগে তার বাবা ধার-দেনা করে ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠায়। জাকিরের সাথে রাশিয়ায় সফরসঙ্গী ছিলেন তারই চাচাতো ভাই আলী হোসেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। শুরুতে অবস্থা ভালো না থাকলেও দুয়েক মাস আগে ওই কোম্পানিতে সুপারভাইজর হিসেবে প্রমোশন হয়েছে। পরিবারের জন্য সুদিন ছিল। নূরে আলম আরও বলেন, ৯ মাস আগে বাবা রতন মিয়া অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

জাকিরের আরও তিন ভাই রয়েছে। একজন গ্রিসে গেছেন কয়েক মাস আগে। মাথায় ঋণের চাপ অনেক। ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারেনি জাকির হোসেন। ২৫ আগস্ট পরিবার জানতে পারেন জাকির আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। রাশিয়ার অবস্থান করা চাচাতো ভাই আলী হোসেনও জানতো সে হাসপাতালে। কিন্তু ২৭ আগস্ট আলী হোসেনের মাধ্যমে জানতে পারে দুর্ঘটনার দিনই কোম্পানির একটি রুমে মৃত্যু হয় ও মরদেহ সেখানেই পড়ে আছে।

এ সময় শরীফ নিজের বড় ভাইকে ফিরে পেতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে আমার স্বামী দেশে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাত্র দেড় বছর আগে সংসারের সচ্ছলতা ফিরাতে ধার-দেনা করে রাশিয়ায় যায়। আমার সাথে ঘটনার দিন সকাল ৭টায় ফোনে ৫ মিনিট কথা বলেন। তখন সে বলে আমাদের সুদিন ফিরবে সবাই যেন দোয়া করি।

তিনি আরও বলেন, আমি কল্পনাও করতে পারিনি সে মৃত্যুবরণ করবেন। আমার চার বছরের তায়েবা নামের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে; আমি মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব। কীভাবে মানুষ করব। আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। এ বিষয়ে একই দাবি মা রোকেয়া বেগমের। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সন্তানের লাশটা বুকে নিতে পারেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, এ প্রতিনিধির মাধ্যমে জাকির হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি।

আমি প্রশাসনিকভাবে খবর নিচ্ছি। নিহতের পরিবার যেন ছেলের মরদেহ দেশে আনতে পারে প্রয়োজনে সেই ব্যবস্থা করব। সরকারিভাবে রাশিয়ায় গিয়ে থাকলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শ্রমকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে। ভবিষ্যতে আর্থিক সহযোগিতারও সুযোগ রয়েছে। জানা যায়, ২৫ আগস্ট রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়।

নিহত হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি থাকার কথা জানিয়েছে মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়ার দাবি ‘অধিকার’-এর

রাশিয়ার আমুরে জাকিরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি

Update Time : 12:36:20 pm, Saturday, 29 August 2026

রাশিয়ার আমুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত জাকির হোসেনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় বাড়িতে চলছে মা ও স্ত্রীর বুকফাটা আর্তনাদ। কোনোভাবেই থামছে না স্বজনদের আহাজারি। ২৮ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে গেছে বাতাস। পরিবারের বড় ছেলের অপেক্ষায় মা। যাকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পাঠিয়েছিলেন দূর প্রবাস রাশিয়ায়। ছেলের মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণ তো হয়ই নি বরং ছেলেকে পাঠানো ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন কীভাবে ও চার বছরের কন্যাসন্তানকে কি বলে সান্ত্বনা দেবেন সেই ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন জাকিরের মা রোকেয়া বেগম। নিহত জাকির কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের বড় বাড়ির নিহত রতন মিয়ার ছেলে।

নিহতের ভাই নূরে আলম বলেন, পরিবারের স্বচ্ছতা ফেরাতে দেড় বছর আগে তার বাবা ধার-দেনা করে ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠায়। জাকিরের সাথে রাশিয়ায় সফরসঙ্গী ছিলেন তারই চাচাতো ভাই আলী হোসেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। শুরুতে অবস্থা ভালো না থাকলেও দুয়েক মাস আগে ওই কোম্পানিতে সুপারভাইজর হিসেবে প্রমোশন হয়েছে। পরিবারের জন্য সুদিন ছিল। নূরে আলম আরও বলেন, ৯ মাস আগে বাবা রতন মিয়া অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

জাকিরের আরও তিন ভাই রয়েছে। একজন গ্রিসে গেছেন কয়েক মাস আগে। মাথায় ঋণের চাপ অনেক। ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারেনি জাকির হোসেন। ২৫ আগস্ট পরিবার জানতে পারেন জাকির আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। রাশিয়ার অবস্থান করা চাচাতো ভাই আলী হোসেনও জানতো সে হাসপাতালে। কিন্তু ২৭ আগস্ট আলী হোসেনের মাধ্যমে জানতে পারে দুর্ঘটনার দিনই কোম্পানির একটি রুমে মৃত্যু হয় ও মরদেহ সেখানেই পড়ে আছে।

এ সময় শরীফ নিজের বড় ভাইকে ফিরে পেতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে আমার স্বামী দেশে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাত্র দেড় বছর আগে সংসারের সচ্ছলতা ফিরাতে ধার-দেনা করে রাশিয়ায় যায়। আমার সাথে ঘটনার দিন সকাল ৭টায় ফোনে ৫ মিনিট কথা বলেন। তখন সে বলে আমাদের সুদিন ফিরবে সবাই যেন দোয়া করি।

তিনি আরও বলেন, আমি কল্পনাও করতে পারিনি সে মৃত্যুবরণ করবেন। আমার চার বছরের তায়েবা নামের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে; আমি মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব। কীভাবে মানুষ করব। আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। এ বিষয়ে একই দাবি মা রোকেয়া বেগমের। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সন্তানের লাশটা বুকে নিতে পারেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, এ প্রতিনিধির মাধ্যমে জাকির হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি।

আমি প্রশাসনিকভাবে খবর নিচ্ছি। নিহতের পরিবার যেন ছেলের মরদেহ দেশে আনতে পারে প্রয়োজনে সেই ব্যবস্থা করব। সরকারিভাবে রাশিয়ায় গিয়ে থাকলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শ্রমকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে। ভবিষ্যতে আর্থিক সহযোগিতারও সুযোগ রয়েছে। জানা যায়, ২৫ আগস্ট রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়।

নিহত হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি থাকার কথা জানিয়েছে মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।