পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা ও ব্যারিস্টার ইফতিখার গিলানি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এর আগে মুজাফফরাবাদে আজাদ কাশ্মীর আইনসভার অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার চৌধুরী তারিক ফারুক। ভোটে ইফতিখার গিলানি ৩১টি ভোট পান। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সরদার মুখতার খান পেয়েছেন ১৪ ভোট। ভোটগ্রহণের আগে দুই প্রার্থী পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন।
আইনসভায় দুজনের উপস্থিতিতেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার সভাপতি শাহ গুলাম কাদির উপস্থিত না থাকলেও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার উপস্থিত ছিলেন। শপথ নেওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী ইফতিখার গিলানি বলেন, তার সরকার দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আজাদ কাশ্মীরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চায়, যা বিশ্বের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব। ’ গিলানি বলেন, আজাদ কাশ্মীরে সুশাসনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তার সরকার কাজ করবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর সেবার মান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য হবে জনগণের জন্য কার্যকর প্রশাসন নিশ্চিত করা। গিলানির ভাষায়, ‘এই সরকার হবে জনগণের সরকার। ’ একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এখন থেকে কাশ্মীরের জনগণের জন্য একটি নতুন সময়ের সূচনা হবে। তার মেয়াদে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মচারীরা সরকারের পরিবর্তন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল দেখতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইফতিখার গিলানি আজাদ কাশ্মীরে পিএমএল-এনের প্রভাবশালী নেতাদের একজন। মুজাফফরাবাদের একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া গিলানির আইন, শিক্ষা ও সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইসলামাবাদে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জনের পর পাকিস্তানে ফিরে ইসলামাবাদে আইন পেশায় যুক্ত হন।
















