আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছি, তোলাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলছি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলছি। আমরা উন্নয়নের কথা বলছি।
আমরা ঘরে ঘরে এই উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে চাই। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ‘আগামীর শৈলকুপা’ নামের সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের (আন্তঃইউনিয়ন) ফাইনাল খেলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা বদলে যাই, বদলে দিই। নিজে বদলাই, সমাজকে বদলে দিই।
তিনি বলেন, শৈলকুপার বারইপাড়া গ্রামে সরকারি জলাশয় ও ক্যানালের পাশে থাকা জলাশয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাছ ছাড়া হচ্ছে। এ মাছ গ্রামের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে দুটি শর্ত মেনে চলতে হবে—জাল দিয়ে কেউ মাছ ধরতে পারবেন না এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশে মাছ ধরা যাবে না। গ্রামের বাসিন্দারা সারা বছর বর্শি কিংবা হাত দিয়ে মাছ ধরে নিজেদের খাবারের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।
এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রামেরই কোনো না কোনো মানুষ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় আছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রামের সরকারি পতিত জলাশয়ে মাছ ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। বছরে সবাই মিলে ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেও একটি গ্রামের জলাশয়ে মাছ ছাড়া সম্ভব। সেই মাছ বছর শেষে গ্রামের মানুষই উপভোগ করবেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে বলেছিলাম, ‘শৈলকুপা’ সবার জন্য উন্মুক্ত। আমরা সেই পথ ধরে হাঁটছি। আমাদের সঙ্গে থাকেন, পাশে থাকেন। আমরা যদি অন্যায় করি, ভুল পথে যাই—আমাদের ভুল ধরিয়ে দেন। আপনারা সঠিকভাবে ভুল ধরিয়ে দিলে আমরা সেই ভুল সংশোধন করব। আর সেই ভুল সংশোধনের পথে আপনারা অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাশে থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে হবে। সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে ঘিরে বিকেল থেকেই মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আন্তঃইউনিয়ন এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



















