হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর একই আমদানিকারকের দুটি পৃথক চালানে মিথ্যা ঘোষণা, অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা এবং আমদানি-নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপ আনার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে।
অভিযানে দুই চালান থেকে ১ হাজার ১৬৭টি ল্যাপটপ, ১০০টি ট্যাব ও আইপ্যাড এবং বিপুল পরিমাণ গাড়ির যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকারক Sardar Global Trade এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট FAHIM 5 STAR LTD-এর নামে আসা দুটি চালানের ঘোষিত মূল্য ছিল মাত্র ৫,৫০০ মার্কিন ডলার। তবে কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নে প্রকৃত মূল্য ধরা হয়েছে ১,৬৭,৭৮৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা।
অর্থাৎ ঘোষিত মূল্যের তুলনায় মূল্যায়িত মূল্য প্রায় ৩০.৫ গুণ বেশি। প্রথম চালানে ৭৪০ ল্যাপটপ AWB 997-66890751-এর চালানে ঘোষিত মূল্য ছিল ৩,৫০০ ডলার। কিন্তু পরীক্ষায় ৫৪৩টি HP Core i5, ১৮৭টি HP Core i3 এবং আরও ১০টি HP Core i5 ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এছাড়া ৫৫টি ট্যাব ও ৫টি আইপ্যাড উদ্ধার হয়। এই চালানে মোট ৭৪০টি ল্যাপটপ ও ৬০টি ট্যাব/আইপ্যাড পাওয়া গেছে।
ঘোষণার তুলনায় অতিরিক্ত ৪৩টি ল্যাপটপ শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় চালানে আরও ৪২৭ ল্যাপটপ AWB 997-60500451-এর ঘোষিত মূল্য ছিল মাত্র ২,০০০ ডলার। কায়িক পরীক্ষায় ৩৮১টি Core i5 ও ৪৬টি Core i3 ল্যাপটপসহ মোট ৪২৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি পাওয়া যায় ৩৫টি ট্যাব ও ৫টি আইপ্যাড। এই চালানেও ঘোষণার অতিরিক্ত ৩৯টি ল্যাপটপ পাওয়া গেছে। কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, উদ্ধার হওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ল্যাপটপের বাহ্যিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে সেগুলো ব্যবহৃত (Used) বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
পরীক্ষণ প্রতিবেদনে এসব পণ্য “could be used as per external appearance” বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রচলিত আমদানি নীতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্যের আওতাভুক্ত হতে পারে। এ ছাড়া ক্যাপাসিটর, রাবার সিল, ও-রিং, গ্যাসকেট ও ফিটিংস হিসেবে ঘোষিত একাধিক পণ্য পরীক্ষায় গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট HS কোড পরিবর্তনের বিষয়ও উঠে এসেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট চালান দুটির খালাস স্থগিত করা হয়। পরে ২৩ আগস্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি, পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন এবং আমদানি-নিষিদ্ধ ব্যবহৃত পণ্য আনার অভিযোগে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ও প্রযোজ্য আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


















