আজ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

একরামুল হত্যা মামলা: সাবেক এমপি বদিসহ ৪ আসামিকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনাল

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:16:20 pm, Tuesday, 25 August 2026
  • 7

একরামুল হত্যা মামলা: সাবেক এমপি বদিসহ ৪ আসামিকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনাল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

একই মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আবদুর রহমান বদিসহ যে চার আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল, তারা হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান যেসব পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া।

এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হানসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে প্রসিকিউশন জানায়, গত ২৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট এবং পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নেওয়া হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো এবং পলাতক সাতজনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করে প্রসিকিউশন।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলী এলাকার একটি সড়ক থেকে কাউন্সিলর একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে একই রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।

ঘটনার সময় একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, অপহরণ, কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা, হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা, সহায়তা এবং নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পেকুয়া বাজার-সিরাদিয়া সড়ক: ২২ বছর সংস্কারহীন ১ কিলোমিটার, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

একরামুল হত্যা মামলা: সাবেক এমপি বদিসহ ৪ আসামিকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনাল

Update Time : 04:16:20 pm, Tuesday, 25 August 2026

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

একই মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আবদুর রহমান বদিসহ যে চার আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল, তারা হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান যেসব পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া।

এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হানসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে প্রসিকিউশন জানায়, গত ২৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট এবং পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নেওয়া হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো এবং পলাতক সাতজনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করে প্রসিকিউশন।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলী এলাকার একটি সড়ক থেকে কাউন্সিলর একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে একই রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।

ঘটনার সময় একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, অপহরণ, কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা, হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা, সহায়তা এবং নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।