মহাসড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাটসহ প্রায় ৪০০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর বাজার থেকে এ অভিযান শুরু হয়। জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার নির্দেশে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাত হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
ভবানীপুর বাজার থেকে বাঘের বাজার ও মেম্বারবাড়ি পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মহাসড়কের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট, ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। জেলা প্রশাসন বলছে, এ অভিযানে প্রায় ৪০০টি স্থাপনা সরিয়ে মহাসড়কের জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের সরকারি জায়গা দখল করে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে উঠছিল।
অনেক স্থানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশও সড়কের জায়গার দিকে বাড়ানো হয়েছিল। পাশাপাশি বসানো হতো ভাসমান দোকান। এতে মহাসড়কের প্রশস্ততা কমে যায়। দোকানের সামনে যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং মালামাল ওঠানো-নামানোর কারণে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতো। পথচারীদেরও অনেক সময় মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলতে হতো। ফলে ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছিল।
অভিযানের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবানীপুর বাজার থেকে বাঘের বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের ওপর এখন কোনো ভাসমান দোকান নেই। গাজীপুর সদর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কোথাও এ মুহূর্তে যানজট নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। দখলমুক্ত করা সড়ক ও মহাসড়ক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থাপনার জন্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফলে উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো ভবিষ্যতে যাতে আবার দখল না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ নেই। এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক। যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় মহাসড়কের জায়গা চিহ্নিত করে প্রায় ৪০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভবানীপুর বাজার থেকে বাঘের বাজার পর্যন্ত এখন মহাসড়কের ওপর কোনো ভাসমান দোকান নেই। সাজ্জাত হোসেন আরও বলেন, উচ্ছেদের পর একই জায়গায় আবার স্থাপনা নির্মাণ বা দখল করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু উচ্ছেদ নয়, পুনরায় দখল ঠেকাতেও নজরদারি থাকবে। উচ্ছেদ অভিযানে গাজীপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল হাসান সৌরভ, টঙ্গী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুর রহমান, সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার লিপি রানী সিনহা, জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনসহ র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। উচ্ছেদ করা জায়গা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে সেখানে নতুন করে দখল তৈরি না হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মহাসড়কের জায়গা দখল করে দোকানপাট গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
বাজার এলাকায় দোকান, মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ একসঙ্গে বাড়লে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ত। উচ্ছেদের পর মহাসড়কের দুই পাশ অনেকটা উন্মুক্ত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হয়েছে। তবে তাদের আশঙ্কা, নিয়মিত নজরদারি না থাকলে উচ্ছেদ করা জায়গায় আবারও দোকানপাট গড়ে উঠতে পারে। তাই তাঁরা শুধু উচ্ছেদ নয়, দখল ঠেকাতে স্থায়ী নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল বা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রায় ৪০০টি স্থাপনা উচ্ছেদের পর ভবানীপুর বাজার থেকে বাঘের বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের দীর্ঘদিনের দখলচিত্রে পরিবর্তন এসেছে।
এখন সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— উচ্ছেদ করা জায়গা কতটা স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা যায়।























