রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতি কনিকা মন্ডলের পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকা মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। চিকিৎসা অবহেলার কোনো ঘটনা বরদাশত করা হবে না। বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কনিকার পরিবারের পাশে সরকার থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবং সরকার থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনে স্বাস্থ্যসেবা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় কনিকার পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশন করান বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
অপারেশনের পরদিন থেকেই কনিকার পেট ফুলে যায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে মারা যান তিন সন্তানের জননী কনিকা মন্ডল।
কনিকার মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তার পেটে গজ রয়ে যায়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রব তালুকদারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
























