আজ শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৯%

চীন-রাশিয়ার বিরোধিতায় ট্রাম্পের ইরান নীতি কতটুকু সফল হবে?

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:02:11 pm, Saturday, 22 August 2026
  • 7

চীন-রাশিয়ার বিরোধিতায় ট্রাম্পের ইরান নীতি কতটুকু সফল হবে?

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইরানে যুদ্ধ করে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় এবার অর্থনীতিকে অস্ত্র বানিয়ে তেহরানকে চাপে ফেলতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ওয়াশিংটনের নতুন এই চাল মাঠে নামার আগেই সামনে চলে এল বড় বাধা। চীন বলছে, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান নয়। আর রাশিয়া বলছে—আমেরিকা আবারও ভুল পথ বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ ইরানকে একঘরে করতে গিয়ে এবার কি উল্টো আমেরিকাই দুই পরাশক্তির চাপে পড়ছে?

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংঘাতের পর এবার সামরিক চাপের বদলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওয়াশিংটন এটিকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অভিযান হিসেবে তুলে ধরছে। লক্ষ্য একটাই—ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলা এবং তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা। কিন্তু এবার আমেরিকার সামনে শুধু ইরান নয়—আছে চীন ও রাশিয়ার মতো দুই বড় শক্তিও।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি চীন। আর এখানেই ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় জটিলতা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে—নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ কোনো সংকটের সমাধান নয়; বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথেই খুঁজতে হবে সমাধান।

এখানেই শেষ নয়, রাশিয়াও ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে। রুশ কূটনীতিক মিখাইল উলিয়ানভের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান বহু বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও টিকে আছে। এমনকি ট্রাম্পের আগের মেয়াদের ‘সর্বোচ্চ চাপের’ নীতিও তেহরানকে নত করতে পারেনি। তার বক্তব্যের মূল বার্তা—আমেরিকা আবারও ভুল পথ বেছে নিয়েছে; ইতিবাচক ফল চাইলে কূটনীতির পথেই ফিরতে হবে।

আর এই অবস্থানই ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ আমেরিকা যদি ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে চীন বা অন্য বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পথে হাঁটে, তাহলে সংঘাত শুধু ইরান-আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও।

অন্যদিকে ইরান বলছে, সামরিক চাপ ব্যর্থ হওয়ার পর এখন অর্থনৈতিক চাপকে নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির দাবি, এই নতুন অর্থনৈতিক চাপ আসলে আমেরিকার নিজেদের অর্থনৈতিক সংকট আড়াল করার চেষ্টা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যর্থ নীতিতে আরও জোর দিলে ফল হবে আরও ব্যর্থতা এবং ইরানের সঙ্গে আরও গভীর বিরোধ।

ট্রাম্প ভেবেছিলেন সামরিক চাপের পর অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে এবার ইরানকে কোণঠাসা করা যাবে। কিন্তু পরিকল্পনার শুরুতেই যদি সামনে দাঁড়িয়ে যায় চীন ও রাশিয়া, তাহলে হিসাবটা আর আগের মতো সহজ থাকছে না। ফলে ইরানকে দুর্বল করার পরিকল্পনাই কি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জন্য নতুন সংকট তৈরি করবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

আমেরিকার মানচিত্রে হরমুজ প্রকাশের জবাবে ইরানের মানচিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া!

চীন-রাশিয়ার বিরোধিতায় ট্রাম্পের ইরান নীতি কতটুকু সফল হবে?

Update Time : 09:02:11 pm, Saturday, 22 August 2026

ইরানে যুদ্ধ করে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় এবার অর্থনীতিকে অস্ত্র বানিয়ে তেহরানকে চাপে ফেলতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ওয়াশিংটনের নতুন এই চাল মাঠে নামার আগেই সামনে চলে এল বড় বাধা। চীন বলছে, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান নয়। আর রাশিয়া বলছে—আমেরিকা আবারও ভুল পথ বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ ইরানকে একঘরে করতে গিয়ে এবার কি উল্টো আমেরিকাই দুই পরাশক্তির চাপে পড়ছে?

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংঘাতের পর এবার সামরিক চাপের বদলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওয়াশিংটন এটিকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অভিযান হিসেবে তুলে ধরছে। লক্ষ্য একটাই—ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলা এবং তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা। কিন্তু এবার আমেরিকার সামনে শুধু ইরান নয়—আছে চীন ও রাশিয়ার মতো দুই বড় শক্তিও।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি চীন। আর এখানেই ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় জটিলতা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে—নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ কোনো সংকটের সমাধান নয়; বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথেই খুঁজতে হবে সমাধান।

এখানেই শেষ নয়, রাশিয়াও ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে। রুশ কূটনীতিক মিখাইল উলিয়ানভের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান বহু বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও টিকে আছে। এমনকি ট্রাম্পের আগের মেয়াদের ‘সর্বোচ্চ চাপের’ নীতিও তেহরানকে নত করতে পারেনি। তার বক্তব্যের মূল বার্তা—আমেরিকা আবারও ভুল পথ বেছে নিয়েছে; ইতিবাচক ফল চাইলে কূটনীতির পথেই ফিরতে হবে।

আর এই অবস্থানই ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ আমেরিকা যদি ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে চীন বা অন্য বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পথে হাঁটে, তাহলে সংঘাত শুধু ইরান-আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও।

অন্যদিকে ইরান বলছে, সামরিক চাপ ব্যর্থ হওয়ার পর এখন অর্থনৈতিক চাপকে নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির দাবি, এই নতুন অর্থনৈতিক চাপ আসলে আমেরিকার নিজেদের অর্থনৈতিক সংকট আড়াল করার চেষ্টা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যর্থ নীতিতে আরও জোর দিলে ফল হবে আরও ব্যর্থতা এবং ইরানের সঙ্গে আরও গভীর বিরোধ।

ট্রাম্প ভেবেছিলেন সামরিক চাপের পর অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে এবার ইরানকে কোণঠাসা করা যাবে। কিন্তু পরিকল্পনার শুরুতেই যদি সামনে দাঁড়িয়ে যায় চীন ও রাশিয়া, তাহলে হিসাবটা আর আগের মতো সহজ থাকছে না। ফলে ইরানকে দুর্বল করার পরিকল্পনাই কি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জন্য নতুন সংকট তৈরি করবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।