আজ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন: কী লাভ, কী ক্ষতি

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:09:07 pm, Saturday, 22 August 2026
  • 10

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন: কী লাভ, কী ক্ষতি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

স্বাধীনতার পর থেকে গত প্রায় ৫৫ বছর ধরে বাংলাদেশে নতুন অর্থবছর শুরু হয় পয়লা জুলাই থেকে, আর শেষ হয় ৩০ জুনে। রাষ্ট্রের সার্বিক আয়-ব্যয়, বাজেট, ব্যাংকিং কিংবা কর ব্যবস্থা, সবই চলেছে এই জুলাই-জুন চক্রে। তবে এবার পুরোনো ঐতিহ্য ভেঙে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পয়লা জুলাইয়ের বদলে বাংলাদেশে অর্থবছর শুরু হবে পয়লা এপ্রিল, আর শেষ হবে ৩১ মার্চে।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন? আর এই পরিবর্তনের ফলে সরকারের কী লাভ, আর কী-ই বা ক্ষতি? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

প্রধান কারণ: ‘বর্ষা’ এবং ‘জুন রাশ’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৮ সাল থেকে, অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের অর্থবছর হবে এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত। এর প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে মাত্র ৯ মাসের একটি ‘রূপান্তরমূলক’ বা ‘ট্রানজিশনাল’ অর্থবছর।

ক্যালেন্ডারের হিসাব তিন মাস এগিয়ে নেওয়ার পেছনে সরকারের সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো দেশের আবহাওয়া ও বর্ষাকাল। বর্তমান জুলাই-জুন চক্রে অর্থবছরের শেষ তিন মাস পড়ে এপ্রিল, মে ও জুনে। কাকতালীয়ভাবে এই সময়েই দেশে বর্ষাকাল শুরু হয়। অথচ বাজেট শেষের চাপে এই সময়টাতেই দেশের রাস্তা, সেতু বা বাঁধের মতো বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো তৈরি হয়, যাকে অর্থনীতিবিদরা বলেন ‘জুন রাশ’।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) দিকে তাকালে দেখা যায়, ওই বছর মোট ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে শুধু জুন মাসেই খরচ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের মোট খরচের ২৮ শতাংশের বেশি খরচ হয়েছে বর্ষাবিঘ্নিত শেষ এক মাসে।

এভাবে কাদা-পানিতে তড়িঘড়ি কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় নির্মাণকাজ হয় নিম্নমানের। এছাড়া বিল তোলা নিয়েও থাকে নানা অভিযোগ। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তিতো আছেই।

এক্ষেত্রে সরকার মনে করছে, অর্থবছর পরিবর্তন করে এপ্রিল-মার্চ করা হলে নভেম্বর থেকে মার্চ—এই শুষ্ক মৌসুমের সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়ে উন্নয়নকাজগুলো সময়মতো ও মানসম্মতভাবে শেষ করা যাবে।

তবে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন কিন্তু নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, মোগল সম্রাট আকবরের আমলে রাজস্ব আদায়ের হিসাব শুরু হতো এপ্রিল মাস থেকেই। পরবর্তীতে ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্কটিশ অর্থনীতিবিদ জেমস উইলসন এই এপ্রিল-মার্চ অর্থবছরই চালু করেছিলেন। দেশভাগের পর পাকিস্তান এটি বদলে জুলাই-জুন করে, যা স্বাধীন বাংলাদেশও বজায় রাখে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থবছর ঠিক করার কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক একক নিয়ম নেই। যেমন—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো চলে জানুয়ারি-ডিসেম্বর চক্রে। আবার অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও নেপাল অনুসরণ করে আমাদের বিদ্যমান জুলাই-জুন অর্থনৈতিক চক্র। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতে অর্থবছরের সময়কাল এপ্রিল থেকে মার্চ। এক্ষেত্রে আঞ্চলিকভাবে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক তথ্য মেলানো বা তুলনার ক্ষেত্রেও এই এপ্রিল-মার্চ হিসাব কিছুটা সুবিধা দেবে।

ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই পরিবর্তনের সরাসরি খুব বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে যারা আয়কর দেন, তাদের হিসাবের সময়কাল বদলে যাবে। এতদিন জুলাই-জুন মেয়াদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে রিটার্ন দিতে হতো। নতুন নিয়মে এপ্রিল-মার্চ মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে আয়কর ও রিটার্ন হিসাব করতে হবে।

তবে বড় পরিবর্তন আসবে ব্যবসা ও করপোরেট খাত। ব্যাংক, বিমা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে, অডিট ও বাজেট প্ল্যানিং নতুন করে সাজাতে হবে। এতে শুরুতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু অতিরিক্ত খরচ ও প্রশাসনিক চাপ বাড়লেও এটি মূলত এককালীন পরিবর্তন।

এখন প্রশ্ন হলো, শুধুই কি ক্যালেন্ডারের পাতা তিন মাস এগিয়ে নিলেই উন্নয়ন খাতের সব দুর্নীতি ও ধীরগতি জাদুর মতো দূর হয়ে যাবে? অর্থনীতিবিদরা কিন্তু পুরোপুরি তা মনে করছেন না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সরকারের বাজেটের দুই-তৃতীয়াংশই রাজস্ব ব্যয়, এডিপি বা উন্নয়ন বাজেট এক-তৃতীয়াংশের কম। স্বাস্থ্য বা শিক্ষার মতো খাতগুলোর বাজেট খরচে যে দুর্বলতা, তার সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া অধিকাংশ প্রজেক্ট ২-৩ বার রিভিশন হয়, বাজেট বাড়ানো হয়; এগুলো কেবল তারিখ বদলালেই দূর হবে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট- বিআইবিএমের অধ্যাপক ড. আহসান হাবিব বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আবহাওয়া অজুহাতে আগে মানুষ বাহানা করত যে বৃষ্টির কারণে প্রজেক্ট শেষ হয় নাই। এখন দেখা যাক নতুন কী বাহানা আসে।’

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনকে একটি সম্ভাবনাময় সংস্কার হিসেবেও দেখছেন অনেকে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকল্প পরিচালনা, জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং অর্থ ছাড়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না কমলে ‘জুন রাশের’ বদলে এবার তৈরি হবে ‘মার্চ রাশ’।

একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আসল চ্যালেঞ্জ হলো তার বাস্তবায়ন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের সফটওয়্যার ও কর ব্যবস্থা নতুন এই চক্রে মানিয়ে নেওয়ার কাজটি সহজ নয়। তবে এই কারিগরি চ্যালেঞ্জগুলো সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

তারিখের পরিবর্তন হয়তো সম্ভাবনার একটি বড় দুয়ার খুলে দিচ্ছে, কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে প্রয়োজন কাজের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসা এবং সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন: কী লাভ, কী ক্ষতি

Update Time : 09:09:07 pm, Saturday, 22 August 2026

স্বাধীনতার পর থেকে গত প্রায় ৫৫ বছর ধরে বাংলাদেশে নতুন অর্থবছর শুরু হয় পয়লা জুলাই থেকে, আর শেষ হয় ৩০ জুনে। রাষ্ট্রের সার্বিক আয়-ব্যয়, বাজেট, ব্যাংকিং কিংবা কর ব্যবস্থা, সবই চলেছে এই জুলাই-জুন চক্রে। তবে এবার পুরোনো ঐতিহ্য ভেঙে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পয়লা জুলাইয়ের বদলে বাংলাদেশে অর্থবছর শুরু হবে পয়লা এপ্রিল, আর শেষ হবে ৩১ মার্চে।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন? আর এই পরিবর্তনের ফলে সরকারের কী লাভ, আর কী-ই বা ক্ষতি? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

প্রধান কারণ: ‘বর্ষা’ এবং ‘জুন রাশ’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৮ সাল থেকে, অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের অর্থবছর হবে এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত। এর প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে মাত্র ৯ মাসের একটি ‘রূপান্তরমূলক’ বা ‘ট্রানজিশনাল’ অর্থবছর।

ক্যালেন্ডারের হিসাব তিন মাস এগিয়ে নেওয়ার পেছনে সরকারের সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো দেশের আবহাওয়া ও বর্ষাকাল। বর্তমান জুলাই-জুন চক্রে অর্থবছরের শেষ তিন মাস পড়ে এপ্রিল, মে ও জুনে। কাকতালীয়ভাবে এই সময়েই দেশে বর্ষাকাল শুরু হয়। অথচ বাজেট শেষের চাপে এই সময়টাতেই দেশের রাস্তা, সেতু বা বাঁধের মতো বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো তৈরি হয়, যাকে অর্থনীতিবিদরা বলেন ‘জুন রাশ’।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) দিকে তাকালে দেখা যায়, ওই বছর মোট ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে শুধু জুন মাসেই খরচ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের মোট খরচের ২৮ শতাংশের বেশি খরচ হয়েছে বর্ষাবিঘ্নিত শেষ এক মাসে।

এভাবে কাদা-পানিতে তড়িঘড়ি কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় নির্মাণকাজ হয় নিম্নমানের। এছাড়া বিল তোলা নিয়েও থাকে নানা অভিযোগ। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তিতো আছেই।

এক্ষেত্রে সরকার মনে করছে, অর্থবছর পরিবর্তন করে এপ্রিল-মার্চ করা হলে নভেম্বর থেকে মার্চ—এই শুষ্ক মৌসুমের সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়ে উন্নয়নকাজগুলো সময়মতো ও মানসম্মতভাবে শেষ করা যাবে।

তবে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন কিন্তু নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, মোগল সম্রাট আকবরের আমলে রাজস্ব আদায়ের হিসাব শুরু হতো এপ্রিল মাস থেকেই। পরবর্তীতে ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্কটিশ অর্থনীতিবিদ জেমস উইলসন এই এপ্রিল-মার্চ অর্থবছরই চালু করেছিলেন। দেশভাগের পর পাকিস্তান এটি বদলে জুলাই-জুন করে, যা স্বাধীন বাংলাদেশও বজায় রাখে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থবছর ঠিক করার কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক একক নিয়ম নেই। যেমন—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো চলে জানুয়ারি-ডিসেম্বর চক্রে। আবার অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও নেপাল অনুসরণ করে আমাদের বিদ্যমান জুলাই-জুন অর্থনৈতিক চক্র। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতে অর্থবছরের সময়কাল এপ্রিল থেকে মার্চ। এক্ষেত্রে আঞ্চলিকভাবে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক তথ্য মেলানো বা তুলনার ক্ষেত্রেও এই এপ্রিল-মার্চ হিসাব কিছুটা সুবিধা দেবে।

ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই পরিবর্তনের সরাসরি খুব বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে যারা আয়কর দেন, তাদের হিসাবের সময়কাল বদলে যাবে। এতদিন জুলাই-জুন মেয়াদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে রিটার্ন দিতে হতো। নতুন নিয়মে এপ্রিল-মার্চ মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে আয়কর ও রিটার্ন হিসাব করতে হবে।

তবে বড় পরিবর্তন আসবে ব্যবসা ও করপোরেট খাত। ব্যাংক, বিমা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে, অডিট ও বাজেট প্ল্যানিং নতুন করে সাজাতে হবে। এতে শুরুতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু অতিরিক্ত খরচ ও প্রশাসনিক চাপ বাড়লেও এটি মূলত এককালীন পরিবর্তন।

এখন প্রশ্ন হলো, শুধুই কি ক্যালেন্ডারের পাতা তিন মাস এগিয়ে নিলেই উন্নয়ন খাতের সব দুর্নীতি ও ধীরগতি জাদুর মতো দূর হয়ে যাবে? অর্থনীতিবিদরা কিন্তু পুরোপুরি তা মনে করছেন না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সরকারের বাজেটের দুই-তৃতীয়াংশই রাজস্ব ব্যয়, এডিপি বা উন্নয়ন বাজেট এক-তৃতীয়াংশের কম। স্বাস্থ্য বা শিক্ষার মতো খাতগুলোর বাজেট খরচে যে দুর্বলতা, তার সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া অধিকাংশ প্রজেক্ট ২-৩ বার রিভিশন হয়, বাজেট বাড়ানো হয়; এগুলো কেবল তারিখ বদলালেই দূর হবে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট- বিআইবিএমের অধ্যাপক ড. আহসান হাবিব বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আবহাওয়া অজুহাতে আগে মানুষ বাহানা করত যে বৃষ্টির কারণে প্রজেক্ট শেষ হয় নাই। এখন দেখা যাক নতুন কী বাহানা আসে।’

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনকে একটি সম্ভাবনাময় সংস্কার হিসেবেও দেখছেন অনেকে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকল্প পরিচালনা, জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং অর্থ ছাড়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না কমলে ‘জুন রাশের’ বদলে এবার তৈরি হবে ‘মার্চ রাশ’।

একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আসল চ্যালেঞ্জ হলো তার বাস্তবায়ন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের সফটওয়্যার ও কর ব্যবস্থা নতুন এই চক্রে মানিয়ে নেওয়ার কাজটি সহজ নয়। তবে এই কারিগরি চ্যালেঞ্জগুলো সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

তারিখের পরিবর্তন হয়তো সম্ভাবনার একটি বড় দুয়ার খুলে দিচ্ছে, কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে প্রয়োজন কাজের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসা এবং সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।