আজ বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

নারীর হাতে বাসের স্টিয়ারিং: নতুন এক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:57:09 pm, Wednesday, 19 August 2026
  • 7

নারীর হাতে বাসের স্টিয়ারিং: নতুন এক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একদিন যে মেয়েটিকে বলা হতো—‘তুমি বাইরে যাবে না’, ‘রাস্তাঘাট নিরাপদ নয়’, ‘এটা মেয়েদের কাজ নয়’—আজ সেই মেয়েটিই রাজপথে বাসের স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছেন।

যে নারী একসময় গণপরিবহনে ওঠার আগে চারপাশে তাকিয়ে নিরাপত্তা খুঁজতেন, ভিড়ের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন, অস্বস্তিকর আচরণ সহ্য করেও নীরব থাকতেন, আজ তিনিই অন্য নারীদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই পরিবর্তন শুধু একটি বাসের স্টিয়ারিং বদলের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের নারী সমাজের দীর্ঘ বঞ্চনা, সংগ্রাম, আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং অধিকার অর্জনের এক অসাধারণ যাত্রার প্রতিচ্ছবি।

একসময় এ দেশের নারীর জীবন ছিল মূলত ঘরকেন্দ্রিক। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি, প্রশাসন, ব্যবসা কিংবা প্রযুক্তি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর পদচারণা ছিল সীমিত। সামাজিক কুসংস্কার, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তাদের সামনে তৈরি করেছিল অদৃশ্য দেয়াল। কিন্তু বাংলাদেশের নারী সেই দেয়াল ভেঙেছেন ধীরে ধীরে—কখনো শিক্ষার আলো হাতে, কখনো কর্মক্ষেত্রে, কখনো কারখানার শ্রমিক হিসেবে, কখনো উদ্যোক্তা হয়ে, কখনো প্রশাসনের শীর্ষ পদে, আবার কখনো দেশের রাজনীতির নেতৃত্বে।

আজ সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আরেকটি শক্তিশালী দৃশ্য—নারীর হাতে গণপরিবহনের স্টিয়ারিং। নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন—বিআরটিসি। ১৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়েছে।

মোট ১৪টি বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই বিশেষ সেবা। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি, চট্টগ্রামের দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ার দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। উদ্যোগটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—নারীবান্ধব পরিবেশের পাশাপাশি নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দিয়ে এই সেবা পরিচালনার পরিকল্পনা। অর্থাৎ নারী কেবল বাসের যাত্রী নন; তিনি এখন চালক, কর্মী এবং পরিবহন ব্যবস্থার একজন দায়িত্বশীল অংশীদার।

এটাই নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিচ্ছবিগুলোর একটি। একটি সমাজের পরিবর্তন শুধু আইন বা নীতিমালায় ধরা পড়ে না; অনেক সময় একটি প্রতীকী দৃশ্যই সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা হয়ে ওঠে। রাজপথে একজন নারী যখন ভারী বাস চালান, তখন তিনি শুধু একটি যানবাহন পরিচালনা করেন না—তিনি বহু বছরের সামাজিক ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করেন।

আর সবচেয়ে বড় কথা, তিনি অন্য নারীদের মনে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেন। আজ যে কিশোরী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নারী চালককে বাস চালাতে দেখবে, আগামীকাল হয়তো সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে—সে প্রকৌশলী হবে, চালক হবে, পাইলট হবে, পুলিশ কর্মকর্তা হবে কিংবা নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে। পরিবর্তনের শক্তি এখানেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় নারীর অবদান এখন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

পোশাকশিল্প থেকে কৃষি, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং থেকে উদ্যোক্তা কার্যক্রম—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পৌঁছানোর পথ যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একজন নারী ভালো চাকরির সুযোগ পেয়েও যদি দূরত্ব, যানজট, হয়রানি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে যেতে না পারেন, তাহলে তার যোগ্যতা বাস্তবে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় না।

তাই নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম শর্তগুলোর একটি হলো—নিরাপদ চলাচলের অধিকার। নারীর যাতায়াত শুধু ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয় নয়, এটি জাতীয় উৎপাদনশীলতার বিষয়, শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের বিষয়, শিক্ষার সুযোগের বিষয় এবং সর্বোপরি নাগরিক অধিকারের বিষয়। পিংক বাস সার্ভিস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর যুক্ত হওয়ায় এটিকে অন্যরকম একটি বিশেষত্ব দিয়েছে।

এমন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি সরকারকে সাধুবাদ জানাতে চাই। তবে এখানে একটি প্রশ্ন তোলাও জরুরী যে—এই উদ্যোগ কতটা টেকসই হবে? অতীতে বাংলাদেশে নারীদের জন্য বিশেষ বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকা, সময়সূচি ঠিকভাবে অনুসরণ না করা, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে অনেক উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

সুতরাং এবার শুধু উদ্বোধন করলেই হবে না; উদ্বোধনের পরের দিন থেকেই আসল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়,চূড়ান্ত ফলাফল কি হয়। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যথার্থভাবেই বলেছেন, কোনো সেবা যেন কয়েক মাস পর হারিয়ে না যায়। দুই মাস পর সেবার মান আরও উন্নত করার যে প্রত্যাশা তিনি জানিয়েছেন, সেটিকে বাস্তব প্রশাসনিক কর্মপরিকল্পনায় রূপ দিতে হবে।

কারণ একটি বাস চালু করা সহজ কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করা সত্যিই কঠিন কাজ। নারীদের জন্য আলাদা বাস প্রয়োজন হতে পারে—বিশেষ করে বর্তমান বাস্তবতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারীকে নিরাপদ থাকার জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে না।

ঢাকার সাধারণ বাসেও নারী নিরাপদে উঠবেন, বসবেন, দাঁড়াবেন এবং গন্তব্যে পৌঁছাবেন—এটাই হওয়া উচিত চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজন সাধারণ বাসে সিসিটিভি, কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত চালক ও কন্ডাক্টর, হয়রানির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি। শুধু বাসের ভেতর নয়—বাসস্টপ, ফুটপাত, সড়কের সংযোগস্থল এবং গণপরিবহন টার্মিনালও নিরাপদ করতে হবে।

কারণ নারীর যাত্রা শুরু হয় বাসে ওঠার অনেক আগেই। একজন নারী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। এরপর ভিড় ঠেলে বাসে ওঠেন। বাস থেকে নামার পর তাকে আবার ফুটপাত, অন্ধকার গলি কিংবা ব্যস্ত সড়ক পার হতে হয়। নিরাপত্তার প্রশ্নটি তাই পুরো যাত্রাপথের। নারী চালক নিয়োগ নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কিন্তু তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে এই সাফল্য টেকসই হবে না।

সুতরাং নারী চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর ডিপো সুবিধা, পেশাগত মর্যাদা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভারী যানবাহন চালনার জন্য দক্ষতা তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রয়োজন। নারী চালকদের জন্য আলাদা করে কোনো ‘সহানুভূতি’ নয়—প্রয়োজন যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পেশাগত উন্নতির সমান সুযোগ।

এখানে মনে রাখা জরুরি যে, একজন নারী চালক যখন স্টিয়ারিংয়ে বসেন, তখন তার পরিচয় কেবল নারী নয়; তিনি একজন প্রশিক্ষিত পেশাজীবী। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি বলে আমি মনে করি। ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো অনিশ্চয়তা। কখন বাস আসবে, কতক্ষণ লাগবে, কোথায় দাঁড়াবে—অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীরা নির্ভরযোগ্য তথ্য পান না।

নারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী কিংবা কোনো জরুরি কাজে যাতায়াতকারী নারীর জন্য অপেক্ষার সময়ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই পিংক বাসের নির্দিষ্ট সময়সূচি, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, নির্দিষ্ট স্টপেজ এবং নিয়মিত সার্ভিস নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে অগ্রাধিকারভিত্তিক বাস লেন, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল যাত্রী তথ্যব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

সরকারের ২০০টি ই-বাসের পরিকল্পনাও এই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নারী-কেন্দ্রিক গণপরিবহনের পরিধি অনেক বাড়বে। এটি একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা হতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, গণপরিবহনকে আধুনিক করা এবং নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানো—এই তিনটি লক্ষ্য যদি একই প্রকল্পে সমন্বিত করা যায়, তাহলে পিংক বাস একটি বৃহত্তর নগর-সংস্কারের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের নারীর গল্প আসলে সংগ্রামের গল্প। যে নারী একসময় নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তেন, তিনি আজ দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাচ্ছেন। যে নারী একসময় উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতেন, তিনি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। যে নারী একসময় কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি চাইতেন, তিনি আজ উদ্যোক্তা। যে নারী রাজনীতির মাঠে জায়গা পেতেন না, তিনি আজ নেতৃত্বের আসনে।

আর যে নারী একসময় বাসের ভিড়ে নিরাপদ জায়গা খুঁজতেন, আজ তিনি সেই বাসের স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছেন। এটি কেবল নারীর জয় নয়; এটি বাংলাদেশের সামাজিক বিবর্তনের জয়। একটি রাষ্ট্র কতটা আধুনিক, তা শুধু তার উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল কিংবা নতুন সেতু দিয়ে বিচার করা যায় না। রাষ্ট্র কতটা আধুনিক, তার একটি বড় সূচক হলো—তার নারী নাগরিক কতটা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারেন।

একজন নারী সন্ধ্যার পর নিরাপদে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে পারেন কি না—এটি উন্নয়নের প্রশ্ন। একজন ছাত্রী নিরাপদে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারেন কি না—এটি উন্নয়নের প্রশ্ন। একজন নারী উদ্যোক্তা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিশ্চিন্তে যেতে পারেন কি না—এটিও উন্নয়নের প্রশ্ন। সুতরাং পিংক বাসের স্টিয়ারিংয়ে বসা নারী চালক আসলে আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে দিয়েছেন।

সেই আয়নায় আমরা দেখতে পাচ্ছি—বাংলাদেশ বদলেছে, কিন্তু পরিবর্তনের পথ এখনো অসম্পূর্ণ। এই অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যেতে হলে সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রযুক্তি, আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। তাই পিংক বাস যেন কয়েক মাসের আলোচিত প্রকল্প হয়ে হারিয়ে না যায়। এটি যেন হয় দীর্ঘমেয়াদি গণপরিবহন সংস্কারের পরীক্ষাগার।

একদিন হয়তো এমন বাংলাদেশ তৈরি হবে, যেখানে ‘নারীদের জন্য আলাদা বাস’ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে থাকবে, কিন্তু নারীর নিরাপত্তার জন্য সেটিই একমাত্র আশ্রয় হবে না। কারণ পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থাই তখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানবিক হয়ে উঠবে। সেদিন পিংক বাসের প্রয়োজন হয়তো কমে যাবে, কিন্তু আজকের এই উদ্যোগের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমবে না।

কারণ আমাদের জীবনে কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলোকে শুধু একটি সরকারি প্রকল্প দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। রাজপথে একজন নারী যখন বাসের স্টিয়ারিং ধরেন, তখন সেই স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে ঘুরতে শুরু করে একটি সমাজের পুরোনো মানসিকতার চাকা। আর সেই চাকার ঘূর্ণনই বলে দেয়—বাংলাদেশের নারী আর পিছনের আসনে বসে থাকতে রাজি নন। তিনি চালকের আসনে বসেছেন।

তিনি পথ দেখাচ্ছেন। তিনি গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছেন। এটাই নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। সুতরাং নতুন এই বাংলাদেশকে আর কেউ আটকে রাখতে পারবে না ইনশাল্লাহ। লেখক : আহসান হাবিব বরুন, সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক শনাক্ত

নারীর হাতে বাসের স্টিয়ারিং: নতুন এক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

Update Time : 08:57:09 pm, Wednesday, 19 August 2026

একদিন যে মেয়েটিকে বলা হতো—‘তুমি বাইরে যাবে না’, ‘রাস্তাঘাট নিরাপদ নয়’, ‘এটা মেয়েদের কাজ নয়’—আজ সেই মেয়েটিই রাজপথে বাসের স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছেন।

যে নারী একসময় গণপরিবহনে ওঠার আগে চারপাশে তাকিয়ে নিরাপত্তা খুঁজতেন, ভিড়ের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন, অস্বস্তিকর আচরণ সহ্য করেও নীরব থাকতেন, আজ তিনিই অন্য নারীদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই পরিবর্তন শুধু একটি বাসের স্টিয়ারিং বদলের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের নারী সমাজের দীর্ঘ বঞ্চনা, সংগ্রাম, আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং অধিকার অর্জনের এক অসাধারণ যাত্রার প্রতিচ্ছবি।

একসময় এ দেশের নারীর জীবন ছিল মূলত ঘরকেন্দ্রিক। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি, প্রশাসন, ব্যবসা কিংবা প্রযুক্তি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর পদচারণা ছিল সীমিত। সামাজিক কুসংস্কার, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তাদের সামনে তৈরি করেছিল অদৃশ্য দেয়াল। কিন্তু বাংলাদেশের নারী সেই দেয়াল ভেঙেছেন ধীরে ধীরে—কখনো শিক্ষার আলো হাতে, কখনো কর্মক্ষেত্রে, কখনো কারখানার শ্রমিক হিসেবে, কখনো উদ্যোক্তা হয়ে, কখনো প্রশাসনের শীর্ষ পদে, আবার কখনো দেশের রাজনীতির নেতৃত্বে।

আজ সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আরেকটি শক্তিশালী দৃশ্য—নারীর হাতে গণপরিবহনের স্টিয়ারিং। নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন—বিআরটিসি। ১৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়েছে।

মোট ১৪টি বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই বিশেষ সেবা। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি, চট্টগ্রামের দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ার দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। উদ্যোগটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—নারীবান্ধব পরিবেশের পাশাপাশি নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দিয়ে এই সেবা পরিচালনার পরিকল্পনা। অর্থাৎ নারী কেবল বাসের যাত্রী নন; তিনি এখন চালক, কর্মী এবং পরিবহন ব্যবস্থার একজন দায়িত্বশীল অংশীদার।

এটাই নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিচ্ছবিগুলোর একটি। একটি সমাজের পরিবর্তন শুধু আইন বা নীতিমালায় ধরা পড়ে না; অনেক সময় একটি প্রতীকী দৃশ্যই সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা হয়ে ওঠে। রাজপথে একজন নারী যখন ভারী বাস চালান, তখন তিনি শুধু একটি যানবাহন পরিচালনা করেন না—তিনি বহু বছরের সামাজিক ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করেন।

আর সবচেয়ে বড় কথা, তিনি অন্য নারীদের মনে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেন। আজ যে কিশোরী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নারী চালককে বাস চালাতে দেখবে, আগামীকাল হয়তো সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে—সে প্রকৌশলী হবে, চালক হবে, পাইলট হবে, পুলিশ কর্মকর্তা হবে কিংবা নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে। পরিবর্তনের শক্তি এখানেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় নারীর অবদান এখন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

পোশাকশিল্প থেকে কৃষি, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং থেকে উদ্যোক্তা কার্যক্রম—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পৌঁছানোর পথ যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একজন নারী ভালো চাকরির সুযোগ পেয়েও যদি দূরত্ব, যানজট, হয়রানি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে যেতে না পারেন, তাহলে তার যোগ্যতা বাস্তবে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় না।

তাই নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম শর্তগুলোর একটি হলো—নিরাপদ চলাচলের অধিকার। নারীর যাতায়াত শুধু ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয় নয়, এটি জাতীয় উৎপাদনশীলতার বিষয়, শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের বিষয়, শিক্ষার সুযোগের বিষয় এবং সর্বোপরি নাগরিক অধিকারের বিষয়। পিংক বাস সার্ভিস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর যুক্ত হওয়ায় এটিকে অন্যরকম একটি বিশেষত্ব দিয়েছে।

এমন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি সরকারকে সাধুবাদ জানাতে চাই। তবে এখানে একটি প্রশ্ন তোলাও জরুরী যে—এই উদ্যোগ কতটা টেকসই হবে? অতীতে বাংলাদেশে নারীদের জন্য বিশেষ বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকা, সময়সূচি ঠিকভাবে অনুসরণ না করা, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে অনেক উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

সুতরাং এবার শুধু উদ্বোধন করলেই হবে না; উদ্বোধনের পরের দিন থেকেই আসল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়,চূড়ান্ত ফলাফল কি হয়। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যথার্থভাবেই বলেছেন, কোনো সেবা যেন কয়েক মাস পর হারিয়ে না যায়। দুই মাস পর সেবার মান আরও উন্নত করার যে প্রত্যাশা তিনি জানিয়েছেন, সেটিকে বাস্তব প্রশাসনিক কর্মপরিকল্পনায় রূপ দিতে হবে।

কারণ একটি বাস চালু করা সহজ কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করা সত্যিই কঠিন কাজ। নারীদের জন্য আলাদা বাস প্রয়োজন হতে পারে—বিশেষ করে বর্তমান বাস্তবতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারীকে নিরাপদ থাকার জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে না।

ঢাকার সাধারণ বাসেও নারী নিরাপদে উঠবেন, বসবেন, দাঁড়াবেন এবং গন্তব্যে পৌঁছাবেন—এটাই হওয়া উচিত চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজন সাধারণ বাসে সিসিটিভি, কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত চালক ও কন্ডাক্টর, হয়রানির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি। শুধু বাসের ভেতর নয়—বাসস্টপ, ফুটপাত, সড়কের সংযোগস্থল এবং গণপরিবহন টার্মিনালও নিরাপদ করতে হবে।

কারণ নারীর যাত্রা শুরু হয় বাসে ওঠার অনেক আগেই। একজন নারী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। এরপর ভিড় ঠেলে বাসে ওঠেন। বাস থেকে নামার পর তাকে আবার ফুটপাত, অন্ধকার গলি কিংবা ব্যস্ত সড়ক পার হতে হয়। নিরাপত্তার প্রশ্নটি তাই পুরো যাত্রাপথের। নারী চালক নিয়োগ নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কিন্তু তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে এই সাফল্য টেকসই হবে না।

সুতরাং নারী চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর ডিপো সুবিধা, পেশাগত মর্যাদা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভারী যানবাহন চালনার জন্য দক্ষতা তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রয়োজন। নারী চালকদের জন্য আলাদা করে কোনো ‘সহানুভূতি’ নয়—প্রয়োজন যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পেশাগত উন্নতির সমান সুযোগ।

এখানে মনে রাখা জরুরি যে, একজন নারী চালক যখন স্টিয়ারিংয়ে বসেন, তখন তার পরিচয় কেবল নারী নয়; তিনি একজন প্রশিক্ষিত পেশাজীবী। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি বলে আমি মনে করি। ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো অনিশ্চয়তা। কখন বাস আসবে, কতক্ষণ লাগবে, কোথায় দাঁড়াবে—অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীরা নির্ভরযোগ্য তথ্য পান না।

নারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী কিংবা কোনো জরুরি কাজে যাতায়াতকারী নারীর জন্য অপেক্ষার সময়ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই পিংক বাসের নির্দিষ্ট সময়সূচি, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, নির্দিষ্ট স্টপেজ এবং নিয়মিত সার্ভিস নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে অগ্রাধিকারভিত্তিক বাস লেন, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল যাত্রী তথ্যব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

সরকারের ২০০টি ই-বাসের পরিকল্পনাও এই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নারী-কেন্দ্রিক গণপরিবহনের পরিধি অনেক বাড়বে। এটি একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা হতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, গণপরিবহনকে আধুনিক করা এবং নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানো—এই তিনটি লক্ষ্য যদি একই প্রকল্পে সমন্বিত করা যায়, তাহলে পিংক বাস একটি বৃহত্তর নগর-সংস্কারের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের নারীর গল্প আসলে সংগ্রামের গল্প। যে নারী একসময় নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তেন, তিনি আজ দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাচ্ছেন। যে নারী একসময় উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতেন, তিনি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। যে নারী একসময় কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি চাইতেন, তিনি আজ উদ্যোক্তা। যে নারী রাজনীতির মাঠে জায়গা পেতেন না, তিনি আজ নেতৃত্বের আসনে।

আর যে নারী একসময় বাসের ভিড়ে নিরাপদ জায়গা খুঁজতেন, আজ তিনি সেই বাসের স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছেন। এটি কেবল নারীর জয় নয়; এটি বাংলাদেশের সামাজিক বিবর্তনের জয়। একটি রাষ্ট্র কতটা আধুনিক, তা শুধু তার উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল কিংবা নতুন সেতু দিয়ে বিচার করা যায় না। রাষ্ট্র কতটা আধুনিক, তার একটি বড় সূচক হলো—তার নারী নাগরিক কতটা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারেন।

একজন নারী সন্ধ্যার পর নিরাপদে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে পারেন কি না—এটি উন্নয়নের প্রশ্ন। একজন ছাত্রী নিরাপদে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারেন কি না—এটি উন্নয়নের প্রশ্ন। একজন নারী উদ্যোক্তা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিশ্চিন্তে যেতে পারেন কি না—এটিও উন্নয়নের প্রশ্ন। সুতরাং পিংক বাসের স্টিয়ারিংয়ে বসা নারী চালক আসলে আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে দিয়েছেন।

সেই আয়নায় আমরা দেখতে পাচ্ছি—বাংলাদেশ বদলেছে, কিন্তু পরিবর্তনের পথ এখনো অসম্পূর্ণ। এই অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যেতে হলে সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রযুক্তি, আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। তাই পিংক বাস যেন কয়েক মাসের আলোচিত প্রকল্প হয়ে হারিয়ে না যায়। এটি যেন হয় দীর্ঘমেয়াদি গণপরিবহন সংস্কারের পরীক্ষাগার।

একদিন হয়তো এমন বাংলাদেশ তৈরি হবে, যেখানে ‘নারীদের জন্য আলাদা বাস’ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে থাকবে, কিন্তু নারীর নিরাপত্তার জন্য সেটিই একমাত্র আশ্রয় হবে না। কারণ পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থাই তখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানবিক হয়ে উঠবে। সেদিন পিংক বাসের প্রয়োজন হয়তো কমে যাবে, কিন্তু আজকের এই উদ্যোগের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমবে না।

কারণ আমাদের জীবনে কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলোকে শুধু একটি সরকারি প্রকল্প দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। রাজপথে একজন নারী যখন বাসের স্টিয়ারিং ধরেন, তখন সেই স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে ঘুরতে শুরু করে একটি সমাজের পুরোনো মানসিকতার চাকা। আর সেই চাকার ঘূর্ণনই বলে দেয়—বাংলাদেশের নারী আর পিছনের আসনে বসে থাকতে রাজি নন। তিনি চালকের আসনে বসেছেন।

তিনি পথ দেখাচ্ছেন। তিনি গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছেন। এটাই নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। সুতরাং নতুন এই বাংলাদেশকে আর কেউ আটকে রাখতে পারবে না ইনশাল্লাহ। লেখক : আহসান হাবিব বরুন, সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।