আজ বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৩%

যশোরেশ্বরী মন্দিরে নরেন্দ্র মোদির দেওয়া স্বর্ণের মুকুট চুরির চার্জশিটের শুনানি

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:56:04 pm, Wednesday, 19 August 2026
  • 7

যশোরেশ্বরী মন্দিরে নরেন্দ্র মোদির দেওয়া স্বর্ণের মুকুট চুরির চার্জশিটের শুনানি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঐতিহ্যবাহী যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপহার দেওয়া ঐতিহাসিক স্বর্ণের মুকুট চুরির মামলায় দায়ের করা চার্জশিটের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার মূল বাদী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সাতক্ষীরা আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ তদন্ত শেষে আদালতে দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র ও অব্যাহতির সুপারিশপত্রে ডিবি পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামি করা হয়েছে ঈশ্বরীপুর গ্রামের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রেখা সরকার (৪০) এবং ঢাকার কদমতলী এলাকার বাসিন্দা সম্রাট ফারুখ মাওলাকে (৪২)।

অন্যদিকে, তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় আগে গ্রেফতার হওয়া অন্য চার আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐতিহাসিক যশোরেশ্বরী কালীমন্দির সফরকালে কালীমাতার বিগ্রহে পরানোর জন্য বিশেষ নকশার এই স্বর্ণের মুকুটটি উপহার দিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর দুপুরে মন্দিরের সেবায়েত ও দর্শনার্থীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে মুকুটটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি চুরি মামলা করেন। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। তদন্তের সময় গ্রেফতার হওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী রেখা সরকার চুরিতে সহায়তার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তবে ডিবি পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—চুরির মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে আল আমিনের নাম এলেও তার সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে চুরি হওয়া অমূল্য স্বর্ণের মুকুটটিও উদ্ধার করা যায়নি। মুকুটটি উদ্ধার না হওয়া এবং চুরির মূল চক্রটির স্পষ্ট রূপ উন্মোচিত না হওয়ায় তদন্তের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার জানান, কীভাবে এই চুরি সংঘটিত হলো এবং অমূল্য মুকুটটি উদ্ধার না হওয়া সত্ত্বেও চার্জশিট দেওয়া হলো—এসব বিষয়ে তদন্তে বেশ কিছু স্পষ্ট ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিষয়গুলো আদালতের দৃষ্টিগোচর করা হবে এবং চুরির রহস্য উন্মোচন ও মুকুট উদ্ধারের স্বার্থে অধিকতর তদন্তের (পুনর্বার তদন্ত) আবেদন জানানোর জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন

যশোরেশ্বরী মন্দিরে নরেন্দ্র মোদির দেওয়া স্বর্ণের মুকুট চুরির চার্জশিটের শুনানি

Update Time : 06:56:04 pm, Wednesday, 19 August 2026

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঐতিহ্যবাহী যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপহার দেওয়া ঐতিহাসিক স্বর্ণের মুকুট চুরির মামলায় দায়ের করা চার্জশিটের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার মূল বাদী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সাতক্ষীরা আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ তদন্ত শেষে আদালতে দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র ও অব্যাহতির সুপারিশপত্রে ডিবি পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামি করা হয়েছে ঈশ্বরীপুর গ্রামের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রেখা সরকার (৪০) এবং ঢাকার কদমতলী এলাকার বাসিন্দা সম্রাট ফারুখ মাওলাকে (৪২)।

অন্যদিকে, তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় আগে গ্রেফতার হওয়া অন্য চার আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐতিহাসিক যশোরেশ্বরী কালীমন্দির সফরকালে কালীমাতার বিগ্রহে পরানোর জন্য বিশেষ নকশার এই স্বর্ণের মুকুটটি উপহার দিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর দুপুরে মন্দিরের সেবায়েত ও দর্শনার্থীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে মুকুটটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি চুরি মামলা করেন। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। তদন্তের সময় গ্রেফতার হওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী রেখা সরকার চুরিতে সহায়তার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তবে ডিবি পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—চুরির মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে আল আমিনের নাম এলেও তার সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে চুরি হওয়া অমূল্য স্বর্ণের মুকুটটিও উদ্ধার করা যায়নি। মুকুটটি উদ্ধার না হওয়া এবং চুরির মূল চক্রটির স্পষ্ট রূপ উন্মোচিত না হওয়ায় তদন্তের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার জানান, কীভাবে এই চুরি সংঘটিত হলো এবং অমূল্য মুকুটটি উদ্ধার না হওয়া সত্ত্বেও চার্জশিট দেওয়া হলো—এসব বিষয়ে তদন্তে বেশ কিছু স্পষ্ট ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিষয়গুলো আদালতের দৃষ্টিগোচর করা হবে এবং চুরির রহস্য উন্মোচন ও মুকুট উদ্ধারের স্বার্থে অধিকতর তদন্তের (পুনর্বার তদন্ত) আবেদন জানানোর জোর সম্ভাবনা রয়েছে।