সাগরের কোল ঘেঁষে জেগে থাকা পতেঙ্গার নোনা হাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মিশে ছিল এক আঁধার কান্না—সুপেয় পানির হাহাকার। লোনা জলের ঘেরাটোপে বন্দি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য সুপেয় জল যেন ছিল এক অধরা স্বপ্ন।
অবশেষে সেই তৃষ্ণার্ত বুকে স্বস্তির নদী বয়ে আনার এক রূপালী দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ওয়াসা বলছে, আগামীতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ঘুমিয়ে থাকা স্বপ্নের টানেলের বুক চিরে এবার আসবে ভান্ডালজুড়ি শোধনাগরের স্ফটিকস্বচ্ছ ধারা। গত ১১ আগস্ট টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে ওয়াসার পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নীতিগত অনাপত্তি (NOC) প্রদান করেছে।
তথ্য সুত্র বলছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলমের দূরদর্শী চিন্তার ফল এই উদ্যোগ। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পদক্ষেপে তিঁনি নজর দেন এলাকার পানি সংকটের ওপর। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে প্রতিদিন নগরীর পতেঙ্গা ও কাট্টলী এলাকায় প্রবাহিত হবে ২ কোটি লিটার কাঙ্কিত সুপেয় পানি।
ওয়াসার তথ্য মতে, গত ১১ আগস্ট প্রেরিত চিঠিতে সেতু কর্তৃপক্ষ এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বেঁধে দিয়েছে নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক। সেতু কর্তৃপক্ষ পত্রে উল্লেখ করেছে, কর্ণফুলী টানেলের মূল কাঠামোর নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রেখে পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে অগ্নি-নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, আপৎকালীন ঝুঁকি ও বিদ্যমান ইউটিলিটির সঙ্গে নিখুঁত সামঞ্জস্য রেখেই চূড়ান্ত করতে হবে প্রকল্পের বিস্তারিত ডিজাইন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ওয়াসার দায়িত্বে এসে পতেঙ্গাবাসীর তৃষ্ণা মেটানোই ছিল আমার অন্যতম প্রথম অঙ্গীকার। সেতু কর্তৃপক্ষের এই সবুজ সংকেতে স্বপ্নের দুয়ার খুলে গেল। দ্রুতই অবসান ঘটবে উপকূলীয় মানুষের বছরের পর বছর জমে থাকা কষ্টের। এমডি আরও জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দিতে সেতু কর্তৃপক্ষ ও মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বাকি কাজ শেষ করার রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পরিকল্পনা পর্যালোচনায় ঢাকায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বসছে গুরুত্বপূর্ণ এক নীতি-নির্ধারণী সভা।




















