আজ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

সমঝোতার মেয়াদ শেষ: ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:16:34 am, Tuesday, 18 August 2026
  • 10

সমঝোতার মেয়াদ শেষ: ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যুদ্ধবিরতি নিয়ে করা সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইরানকে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হওয়া এই চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে গত জুনে স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। এরপর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার এখন আর কোনও কার্যকারিতা নেই।

তিনি আরও বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দিতে দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওই সমঝোতা হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে করা ওই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন কি না সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না’।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি বলছে, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও এখনও কোনও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। জুনের সমঝোতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনার এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করতে চায়। তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, তাতে রাজি নয় তেহরান।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করি, তারা সেই ধরনের চুক্তি করবে না’। তিনি আবারও বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেখানে একটি কারণেই আছি—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আপনারা বুঝতে পারছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং তাদের তা থাকবেও না।

’ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি দারুণ একটি ধারণা’। তিনি বলেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছি।

নৌ অবরোধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছি। আমাদের অবরোধ রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমরা প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটি আমার ভালো লাগে। ’ তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে প্রতি সপ্তাহে ওই অঞ্চল দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি সপ্তাহে হয়তো লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনছি। হয়তো এটি বন্ধ হয়ে যাবে, অথবা আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ’ ট্রাম্প বলেন, ‘প্রণালিটি খোলা আছে, তেলের দাম কমছে এবং আরও কমতে থাকবে—যদি না আমরা এখনকার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর কোনও পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই’।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

দেশের ১১ মেডিকেল কলেজে ২০ হোস্টেল নির্মাণে বাড়ছে ব্যয়

সমঝোতার মেয়াদ শেষ: ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের

Update Time : 10:16:34 am, Tuesday, 18 August 2026

যুদ্ধবিরতি নিয়ে করা সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইরানকে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হওয়া এই চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে গত জুনে স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। এরপর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার এখন আর কোনও কার্যকারিতা নেই।

তিনি আরও বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দিতে দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওই সমঝোতা হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে করা ওই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন কি না সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না’।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি বলছে, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও এখনও কোনও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। জুনের সমঝোতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনার এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করতে চায়। তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, তাতে রাজি নয় তেহরান।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করি, তারা সেই ধরনের চুক্তি করবে না’। তিনি আবারও বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেখানে একটি কারণেই আছি—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আপনারা বুঝতে পারছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং তাদের তা থাকবেও না।

’ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি দারুণ একটি ধারণা’। তিনি বলেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছি।

নৌ অবরোধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছি। আমাদের অবরোধ রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমরা প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটি আমার ভালো লাগে। ’ তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে প্রতি সপ্তাহে ওই অঞ্চল দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি সপ্তাহে হয়তো লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনছি। হয়তো এটি বন্ধ হয়ে যাবে, অথবা আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ’ ট্রাম্প বলেন, ‘প্রণালিটি খোলা আছে, তেলের দাম কমছে এবং আরও কমতে থাকবে—যদি না আমরা এখনকার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর কোনও পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই’।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে।