আজ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

দুই স্ত্রীর সংঘর্ষে জ্ঞান হারিয়েছেন মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:36:55 am, Tuesday, 18 August 2026
  • 8

দুই স্ত্রীর সংঘর্ষে জ্ঞান হারিয়েছেন মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান তার বর্তমান স্ত্রী দান-আদমকে নিয়ে উত্তর উপকূলের এক রিসোর্ট হোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই সময় তার সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদা ও তার সন্তানদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

সম্প্রতি এই পারিবারিক ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানিয়েছে স্কাই নিউজ আরাবিয়া। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি শুরু হয়। আরও অবাক করা বিষয়, এই ঝামেলার মধ্যমণি হাসান নিজেই এক পর্যায়ে মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে মিশরের উত্তর উপকূলের মেরিনা রিসোর্ট এলাকার একটি হোটেলের ক্যাফেতে।

তখন হাসান দান-আদমের সঙ্গে হোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। জনপ্রিয় মিশরীয় শিল্পী মোহামেদ রমজানের একটি অনুষ্ঠান দেখে তারা তখনই হোটেলে ফিরেছিলেন। শুরুতে তাদের পরিকল্পনা ছিল শুধু বিশ্রাম নেওয়া। কিন্তু শান্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। হঠাৎ হাসানের সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদার সন্তানরা ক্যাফেতে চলে আসে এবং সরাসরি হাসানের কাছে গিয়ে তাকে চেয়ার থেকে জোর করে টেনে তুলে সঙ্গে যেতে বলে।

এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হাসানের বর্তমান স্ত্রী দান-আদমের সঙ্গে হুওয়াইদা ও তার মেয়ের মধ্যে তখন বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এই বাগবিতণ্ডা দ্রুতই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে অনেক মানুষ জড়িয়ে পড়ে এক বিশৃঙ্খল ধ্বস্তাধস্তিতে। এই সংঘর্ষের তীব্রতা সাধারণ ঝগড়ার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

দান-আদমের দাবি, কেউ একজন তার গায়ে সরাসরি গরম কফি ছুঁড়ে মারে। এরপর তাকে চড় মারা হয়, ঘুষি মারা হয় এবং চুল টেনে ধরা হয়। এমনকি বিশৃঙ্খলার মধ্যে তার সন্তানদেরও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। সবচেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন আসলে হাসান নিজেই, যিনি দুই পক্ষের মাঝখানে আটকা পড়ে যান। একদিকে বর্তমান স্ত্রী, অন্যদিকে সাবেক স্ত্রীর সন্তানরা, দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে মিশর জাতীয় দলের কোচ কী করবেন বুঝে উঠতে পারেননি।

পরিস্থিতি চরমে উঠলে হাসান শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। হোটেলের অতিথিরা, যারা শুরুতে অবসর সময় উপভোগ করছিলেন, তারাও এই আকস্মিক ঝামেলায় বেশ চমকে যান। পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়লে কেউ একজন সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যের জন্য পুলিশে খবর দেন। এরপর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর হাসানের সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে পরে তিনি স্বেচ্ছায় সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। অন্যদিকে তার বর্তমান স্ত্রী দান-আদম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং নিজের অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে জানান। তিনি বলেন, তাকে একসঙ্গে অনেকজন আক্রমণ করে। শুধু চড়, ঘুষি বা লাথিই নয়, তার চুলও ধরে টানাটানি করা হয়। পুরো ঘটনার সময় হাসান দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, দেখে মনে হচ্ছিল তিনি সম্পূর্ণ অসহায়।

দান-আদম জানান, অনুষ্ঠান দেখে হোটেলের প্রথম তলায় ফেরার পরপরই হাসানের সাবেক স্ত্রীর কয়েকজন সন্তান হঠাৎ ছুটে আসে। তারা হাসানকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে সঙ্গে যেতে বলে। এরপর সংঘর্ষ শুরু হয় এবং কেউ একজন তার মুখে গরম কফি ছুঁড়ে মারে। এরপর তাকে চড়, ঘুষি ও চুল টেনে ধরার শিকার হতে হয়। তিনি আরও বলেন, হাসান দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

পুরো ঘটনায় তাকে অসহায় মনে হচ্ছিল। তিনি বুঝতে পারছিলেন না, সাবেক স্ত্রীর সন্তানদের রক্ষা করবেন, নাকি নিজেকে ও নিজের সন্তানকে রক্ষা করবেন। দান-আদম সবশেষে জানান, পুলিশ এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে এবং এই বিষয়ে তার এখন আর কিছু বলার নেই। তিনি শুধু চান, বিষয়টির ন্যায্য বিচার হোক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

দেশের ১১ মেডিকেল কলেজে ২০ হোস্টেল নির্মাণে বাড়ছে ব্যয়

দুই স্ত্রীর সংঘর্ষে জ্ঞান হারিয়েছেন মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান

Update Time : 09:36:55 am, Tuesday, 18 August 2026

মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান তার বর্তমান স্ত্রী দান-আদমকে নিয়ে উত্তর উপকূলের এক রিসোর্ট হোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই সময় তার সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদা ও তার সন্তানদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

সম্প্রতি এই পারিবারিক ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানিয়েছে স্কাই নিউজ আরাবিয়া। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি শুরু হয়। আরও অবাক করা বিষয়, এই ঝামেলার মধ্যমণি হাসান নিজেই এক পর্যায়ে মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে মিশরের উত্তর উপকূলের মেরিনা রিসোর্ট এলাকার একটি হোটেলের ক্যাফেতে।

তখন হাসান দান-আদমের সঙ্গে হোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। জনপ্রিয় মিশরীয় শিল্পী মোহামেদ রমজানের একটি অনুষ্ঠান দেখে তারা তখনই হোটেলে ফিরেছিলেন। শুরুতে তাদের পরিকল্পনা ছিল শুধু বিশ্রাম নেওয়া। কিন্তু শান্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। হঠাৎ হাসানের সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদার সন্তানরা ক্যাফেতে চলে আসে এবং সরাসরি হাসানের কাছে গিয়ে তাকে চেয়ার থেকে জোর করে টেনে তুলে সঙ্গে যেতে বলে।

এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হাসানের বর্তমান স্ত্রী দান-আদমের সঙ্গে হুওয়াইদা ও তার মেয়ের মধ্যে তখন বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এই বাগবিতণ্ডা দ্রুতই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে অনেক মানুষ জড়িয়ে পড়ে এক বিশৃঙ্খল ধ্বস্তাধস্তিতে। এই সংঘর্ষের তীব্রতা সাধারণ ঝগড়ার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

দান-আদমের দাবি, কেউ একজন তার গায়ে সরাসরি গরম কফি ছুঁড়ে মারে। এরপর তাকে চড় মারা হয়, ঘুষি মারা হয় এবং চুল টেনে ধরা হয়। এমনকি বিশৃঙ্খলার মধ্যে তার সন্তানদেরও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। সবচেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন আসলে হাসান নিজেই, যিনি দুই পক্ষের মাঝখানে আটকা পড়ে যান। একদিকে বর্তমান স্ত্রী, অন্যদিকে সাবেক স্ত্রীর সন্তানরা, দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে মিশর জাতীয় দলের কোচ কী করবেন বুঝে উঠতে পারেননি।

পরিস্থিতি চরমে উঠলে হাসান শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। হোটেলের অতিথিরা, যারা শুরুতে অবসর সময় উপভোগ করছিলেন, তারাও এই আকস্মিক ঝামেলায় বেশ চমকে যান। পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়লে কেউ একজন সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যের জন্য পুলিশে খবর দেন। এরপর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর হাসানের সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে পরে তিনি স্বেচ্ছায় সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। অন্যদিকে তার বর্তমান স্ত্রী দান-আদম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং নিজের অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে জানান। তিনি বলেন, তাকে একসঙ্গে অনেকজন আক্রমণ করে। শুধু চড়, ঘুষি বা লাথিই নয়, তার চুলও ধরে টানাটানি করা হয়। পুরো ঘটনার সময় হাসান দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, দেখে মনে হচ্ছিল তিনি সম্পূর্ণ অসহায়।

দান-আদম জানান, অনুষ্ঠান দেখে হোটেলের প্রথম তলায় ফেরার পরপরই হাসানের সাবেক স্ত্রীর কয়েকজন সন্তান হঠাৎ ছুটে আসে। তারা হাসানকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে সঙ্গে যেতে বলে। এরপর সংঘর্ষ শুরু হয় এবং কেউ একজন তার মুখে গরম কফি ছুঁড়ে মারে। এরপর তাকে চড়, ঘুষি ও চুল টেনে ধরার শিকার হতে হয়। তিনি আরও বলেন, হাসান দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

পুরো ঘটনায় তাকে অসহায় মনে হচ্ছিল। তিনি বুঝতে পারছিলেন না, সাবেক স্ত্রীর সন্তানদের রক্ষা করবেন, নাকি নিজেকে ও নিজের সন্তানকে রক্ষা করবেন। দান-আদম সবশেষে জানান, পুলিশ এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে এবং এই বিষয়ে তার এখন আর কিছু বলার নেই। তিনি শুধু চান, বিষয়টির ন্যায্য বিচার হোক।