আজ সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৬

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:16:53 am, Monday, 17 August 2026
  • 10

ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৬

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ ভাঙতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

এতে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে জিএস ইমামুল হাসানের অবস্থা গুরুতর বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। পরে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করতে রাতে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদেরও কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে দুই প্রো-ভিসি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এরপর প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের গেটে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের সঙ্গে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় ছাত্রদলের একটি দল শিবিরবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে সেখানে আসে। মিছিল দেখে ভিপি আবু নাঈম ‘শহীদুল্লাহ হলের সন্ত্রাসীরা এখানে কী করছে?

’ বলে মন্তব্য করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিপি-জিএসসহ সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। হামলার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাং ধাক্কা খেয়ে একটি পিলারের সঙ্গে পড়ে যান বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে আড়াল করে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

ঘটনার পর হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিপি আবু নাঈমের গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিকে, ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।

তবে ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি তামি দাবি করেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ধারণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, অন্যান্য হল থেকে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসেছিলেন। পরে ভিপি-জিএসদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে যান। প্রাধ্যক্ষকে বের করে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ভেতরে যাইনি। হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়েছিল।

’ অন্যদিকে, ঘটনার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ফুটেজ দেখলেই প্রাধ্যক্ষ কীভাবে দরজা বন্ধ করে তাঁকে হেনস্তা করেছেন, তা স্পষ্ট হতো। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ২টা পার হলেও ফুটেজ দেখানো হয়নি। ইব্রাহিম বলেন, প্রথমে জানানো হয়েছিল, গণমাধ্যম বা অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা ফুটেজ দেখতে পারবেন না; শুধু তিনি, হল সংসদ ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি ফুটেজ দেখতে পারবেন।

তবে শিক্ষকরা বারবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার কথা বলে বিষয়টি পিছিয়ে দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এরপর মূল ঘটনাটি ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ অন্যান্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসে। এতে মূল অভিযোগের বিচার থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। ইব্রাহিমের ভাষ্য, ‘ছাত্রদল আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এফএইচ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবিদ হাসনাতের নেতৃত্বে কমিটির আরও কয়েকজন মিলে অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে গার্ড দিয়ে বের করে নিয়ে গেছে। আমি বিচার চেয়েছিলাম, সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলাম। অথচ এখনো বিচার পাচ্ছি না। ’ এর আগে রোববার সন্ধ্যা থেকে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন হলের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের ১৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৬

Update Time : 07:16:53 am, Monday, 17 August 2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ ভাঙতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

এতে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে জিএস ইমামুল হাসানের অবস্থা গুরুতর বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। পরে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করতে রাতে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদেরও কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে দুই প্রো-ভিসি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এরপর প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের গেটে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের সঙ্গে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় ছাত্রদলের একটি দল শিবিরবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে সেখানে আসে। মিছিল দেখে ভিপি আবু নাঈম ‘শহীদুল্লাহ হলের সন্ত্রাসীরা এখানে কী করছে?

’ বলে মন্তব্য করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিপি-জিএসসহ সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। হামলার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাং ধাক্কা খেয়ে একটি পিলারের সঙ্গে পড়ে যান বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে আড়াল করে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

ঘটনার পর হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিপি আবু নাঈমের গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিকে, ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।

তবে ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি তামি দাবি করেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ধারণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, অন্যান্য হল থেকে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসেছিলেন। পরে ভিপি-জিএসদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে যান। প্রাধ্যক্ষকে বের করে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ভেতরে যাইনি। হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়েছিল।

’ অন্যদিকে, ঘটনার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ফুটেজ দেখলেই প্রাধ্যক্ষ কীভাবে দরজা বন্ধ করে তাঁকে হেনস্তা করেছেন, তা স্পষ্ট হতো। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ২টা পার হলেও ফুটেজ দেখানো হয়নি। ইব্রাহিম বলেন, প্রথমে জানানো হয়েছিল, গণমাধ্যম বা অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা ফুটেজ দেখতে পারবেন না; শুধু তিনি, হল সংসদ ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি ফুটেজ দেখতে পারবেন।

তবে শিক্ষকরা বারবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার কথা বলে বিষয়টি পিছিয়ে দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এরপর মূল ঘটনাটি ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ অন্যান্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসে। এতে মূল অভিযোগের বিচার থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। ইব্রাহিমের ভাষ্য, ‘ছাত্রদল আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এফএইচ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবিদ হাসনাতের নেতৃত্বে কমিটির আরও কয়েকজন মিলে অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে গার্ড দিয়ে বের করে নিয়ে গেছে। আমি বিচার চেয়েছিলাম, সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলাম। অথচ এখনো বিচার পাচ্ছি না। ’ এর আগে রোববার সন্ধ্যা থেকে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন হলের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।