নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং পরিবারের ওপর এর প্রভাবের কথা তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহ আমান।
আবেগপ্রবণ হয়ে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার পরিবারের প্রত্যাশার বিপরীতে রাজনৈতিক জীবনে তাকে টেনশন, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তার ভাষায়, মধ্যবিত্ত পরিবারের মা-বাবার স্বপ্ন থাকে সন্তান লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হবে; কিন্তু তার রাজনৈতিক জীবনের কারণে সেই প্রত্যাশার বদলে পরিবারকে দীর্ঘদিন উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়েছে।
তিনি ২০২০ সালের আগস্টে ছাত্রলীগের হামলায় তার হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও স্মরণ করেন। ওই সময় তার বাবা নিয়মিত তার সঙ্গে কথা বলতেন বলে জানান তিনি। পরে বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বরিশালে যাওয়ার পথে তিনি জানতে পারেন, তার বাবা আর বেঁচে নেই। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহের কথা উল্লেখ করে আমানউল্লাহ আমান বলেন, ওই সময় তিনি ও তার ভাই গ্রেপ্তার হন।
তাঁর দাবি, তাকে না পেয়ে তার পিতৃতুল্য বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাঁর ভাইয়ের রিমান্ড শেষ হওয়ার দিন তাকেও রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে তোলা হয়। সেই সময় কারাগারে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার একটি ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাকে এবং তার ভাইকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার ভাই কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং নির্যাতন না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি স্মরণ করতে গিয়ে আমানউল্লাহ আমান আবেগাপ্লুত হয়ে আরও বলেন, ‘আমার ভাই জোরে চিৎকার দিয়ে ওই সময় পুলিশ অফিসারদের লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘আমার ভাইকে মারলে আমি আসমানের মালিকের কাছে বিচার দেব। ’ এমন ভাষায় কথা বলতে বলতে তার ভাই তখনও অনেক চিৎকার করছিলেন। কারাবন্দি অবস্থায় মায়ের সংগ্রামের একটি সংবাদ দেখার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
আমান বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি সংবাদপত্রে তাঁর মা আম্বিয়া খাতুনকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন তার চোখে পড়ে। সেখানে ৭৫ বছর বয়সী মায়ের সন্তানের জন্য আদালতের বারান্দায় বসে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। আমানউল্লাহ আমান বলেন, রাজনৈতিক জীবনে যত বড় পদ বা সম্মানই আসুক না কেন, বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে না পারার কষ্ট তার কাছে সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাবার জন্য একটি লুঙ্গি বা পাঞ্জাবি কিনে দেওয়ার মতো স্বাভাবিক পারিবারিক আনন্দও তিনি যথেষ্টভাবে উপভোগ করতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, তার মতো অনেক ছাত্রদল নেতাকর্মীর জীবনেও গ্রেপ্তার, মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে একই ধরনের পারিবারিক কষ্ট নেমে এসেছে। মায়ের বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করে আমানউল্লাহ আমান বলেন, তার মা এখনো বেঁচে আছেন, তবে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা পুরোপুরি দূর হয়নি।
ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে মায়ের জন্য কিছু করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।















