শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৯৯ নম্বর বড় রামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো কাটেনি অবকাঠামোগত সংকট। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশাপাশি জরাজীর্ণ অস্থায়ী টিনশেড কক্ষে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। জানা গেছে, ৯৯ নম্বর বড় রামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে তৎকালীন বড় মলনচড়া ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে মেঘনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি ২০০৩ সালে শম্ভুপুর ইউনিয়নের কোড়ালমারা ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হাওলাদারের বাড়ির দরজায় স্থানান্তর করা হয় এবং ২০২০ সালে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে টিনশেডের ছোট তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও নামমাত্র একটি অফিস কক্ষ রয়েছে। একটি কক্ষের শব্দে পাশের কক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। টিনশেড ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও নেই টিউবওয়েল ও পর্যাপ্ত শৌচাগার সুবিধা। পানি পান ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে শিক্ষার্থীদের নিকটবর্তী বাড়িতে যেতে হয়। বিদ্যালয়ের পরিবেশও বেশ অপ্রতুল।
নেই পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী ও খেলাধুলার উপকরণ। বিদ্যালয়ের সামনে নিয়মিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীদের বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য নেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, পাশের বিদ্যালয়গুলোর সুন্দর পরিবেশ দেখে তাদেরও ভালো লাগে। কিন্তু তাদের বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিশেষ করে গরমের সময় শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে হচ্ছে বলে জানান তারা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, উন্নত ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি নতুন আধুনিক ভবন অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় একই সময়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হয়।
তীব্র গরমে টিনের ছাদ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ফলে ছোট শিশুদের শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে জাতীয়করণকৃত এই বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে একজন শিক্ষক রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছেন ৭৬ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তহমিনা মুক্তা বলেন, বিদ্যালয়টির মূল পাকা ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে টিনশেডে পাঠদান করাতে হচ্ছে।
বৃষ্টি হলে টিনের ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং অনেক সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তীব্র গরমে টিনের ছাদ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এতে ছোট শিশুদের ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, টিনশেড হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে টিন কেটে চোর বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ফ্যান, বাতি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দফায় দফায় আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শম্ভুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, বহুদিন ধরে টিনশেড ঘরে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা জরুরি। তজুমদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজ আলম বলেন, আমি এই উপজেলায় কিছুদিন আগে যোগদান করেছি।
বিদ্যালয়টির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই সরকার পিইডিপি-৫ (PEDP-5) প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু করবে।















