9:52 pm, Tuesday, 11 August 2026

ময়মনসিংহে বনের জমিতে ডেপুটি রেঞ্জারের ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:50:17 pm, Tuesday, 11 August 2026
  • 5

ময়মনসিংহে বনের জমিতে ডেপুটি রেঞ্জারের ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ময়মনসিংহ বন বিভাগের উথুরা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে বনের জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নানা অনিয়ম দুর্নীতি করেও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

সিলেট অঞ্চলে দাপ্তরিক বদলি হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে তিনি ময়মনসিংহেই বহাল থেকে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ বাণিজ্য। অভিযোগে উঠেছে, বনের জমিতে ঘর তোলার অনুমতি দিয়ে অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইসমাইল। জানা গেছে, উথুরা রেঞ্জের আদারগারা বিটের শহীদের মোড়ে স্থানীয় শফিকুল ইসলামকে পাকা ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে ১৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল।

একই এলাকার গার্মেন্টসকর্মী আলম ও তার স্ত্রী মুক্তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আউলিয়ারচালার থালপাড়া গজারি বাগানের টিলায় জমি দিয়ে মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে ১৫ লাখ, ঢালপাড়ার বাসিন্দা মুজিবুরকে ৭ রুমের পাকা ভবন করার অনুমতি দিয়ে ২৫ লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার মোড় হিজলাপাড়া গজারি বাগান এলাকার জনৈক ইয়াসিনের ছেলে মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে হাতিয়েছেন ১৮ লাখ টাকা।

পাশাপাশি আউলিয়ার বড়চালা এলাকার এক পল্লি চিকিৎসকের জামাতার কাছ থেকে দোতলা ঘর নির্মাণে সাড়ে তিন লাখ এবং কালিবাড়ীর মোড়ে রুবেল হুজুরের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপর একটি সূত্র জানায়, উথুরা রেঞ্জ পরিদর্শনে গিয়ে অফিস খরচের কথা বলে সংশ্লিষ্ট অফিস কম্পাউন্ডে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ আকাশমণি গাছ বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ইসমাইল হোসেন।

শুধু তাই নয়, আঙ্গারগারা বিট এলাকায় ছোট-বড় আরও ২০টি পাকা ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। বন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই ‘ঘর বাণিজ্য’ করে ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই বিপুল অর্থের জোরেই সিলেটে বদলির আদেশ হওয়ার পরও তিনি দিব্যি ময়মনসিংহে বহাল তবিয়তে আছেন।

এ ব্যাপারে ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

ময়মনসিংহে বনের জমিতে ডেপুটি রেঞ্জারের ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

Update Time : 08:50:17 pm, Tuesday, 11 August 2026

ময়মনসিংহ বন বিভাগের উথুরা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে বনের জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নানা অনিয়ম দুর্নীতি করেও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

সিলেট অঞ্চলে দাপ্তরিক বদলি হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে তিনি ময়মনসিংহেই বহাল থেকে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ বাণিজ্য। অভিযোগে উঠেছে, বনের জমিতে ঘর তোলার অনুমতি দিয়ে অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইসমাইল। জানা গেছে, উথুরা রেঞ্জের আদারগারা বিটের শহীদের মোড়ে স্থানীয় শফিকুল ইসলামকে পাকা ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে ১৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল।

একই এলাকার গার্মেন্টসকর্মী আলম ও তার স্ত্রী মুক্তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আউলিয়ারচালার থালপাড়া গজারি বাগানের টিলায় জমি দিয়ে মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে ১৫ লাখ, ঢালপাড়ার বাসিন্দা মুজিবুরকে ৭ রুমের পাকা ভবন করার অনুমতি দিয়ে ২৫ লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার মোড় হিজলাপাড়া গজারি বাগান এলাকার জনৈক ইয়াসিনের ছেলে মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে হাতিয়েছেন ১৮ লাখ টাকা।

পাশাপাশি আউলিয়ার বড়চালা এলাকার এক পল্লি চিকিৎসকের জামাতার কাছ থেকে দোতলা ঘর নির্মাণে সাড়ে তিন লাখ এবং কালিবাড়ীর মোড়ে রুবেল হুজুরের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপর একটি সূত্র জানায়, উথুরা রেঞ্জ পরিদর্শনে গিয়ে অফিস খরচের কথা বলে সংশ্লিষ্ট অফিস কম্পাউন্ডে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ আকাশমণি গাছ বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ইসমাইল হোসেন।

শুধু তাই নয়, আঙ্গারগারা বিট এলাকায় ছোট-বড় আরও ২০টি পাকা ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। বন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই ‘ঘর বাণিজ্য’ করে ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই বিপুল অর্থের জোরেই সিলেটে বদলির আদেশ হওয়ার পরও তিনি দিব্যি ময়মনসিংহে বহাল তবিয়তে আছেন।

এ ব্যাপারে ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।