1:19 pm, Tuesday, 11 August 2026

ঝালকাঠির রাজাপুরে ১৮ জনবল ও ১৩ শিক্ষক সত্ত্বেও এসএসসিতে পাস মাত্র ১ শিক্ষার্থী

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:26:57 pm, Tuesday, 11 August 2026
  • 5

ঝালকাঠির রাজাপুরে ১৮ জনবল ও ১৩ শিক্ষক সত্ত্বেও এসএসসিতে পাস মাত্র ১ শিক্ষার্থী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষকসহ মোট ১৮ জন কর্মরত থাকলেও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। অর্থাৎ একজন শিক্ষকের বিপরীতে একজনেরও কম পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও এমন ফল নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত। এর বাইরে ক্লার্ক, পিয়নসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন আরও পাঁচজন। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়ের মোট জনবল ১৮ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার মানে তার প্রতিফলন নেই। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির সংখ্যা খুবই কম।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পাঠদান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মাঠে ফুটবল খেলতে দেখা যায়। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বসে সময় কাটাতেও দেখা যায়। ছাত্রীদের উপস্থিতিও ছিল কম। শ্রেণিকক্ষগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশও চোখে পড়েনি।

বিগত সময়ের ফলের চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে তিনজন পাস করেছিল। এবার ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র একজন। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয়রা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে দিতে চান না।

শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় পড়ালেখার মান খারাপ হয়েছে এবং ফলও খারাপ হয়েছে। ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখব কী কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে। বর্তমানে ঢাকায় আছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারব। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টির খারাপ ফলের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারিও দাবি করেছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

হরমুজ প্রণালি শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের, কমেছে জাহাজ চলাচল

ঝালকাঠির রাজাপুরে ১৮ জনবল ও ১৩ শিক্ষক সত্ত্বেও এসএসসিতে পাস মাত্র ১ শিক্ষার্থী

Update Time : 12:26:57 pm, Tuesday, 11 August 2026

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষকসহ মোট ১৮ জন কর্মরত থাকলেও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। অর্থাৎ একজন শিক্ষকের বিপরীতে একজনেরও কম পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও এমন ফল নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত। এর বাইরে ক্লার্ক, পিয়নসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন আরও পাঁচজন। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়ের মোট জনবল ১৮ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার মানে তার প্রতিফলন নেই। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির সংখ্যা খুবই কম।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পাঠদান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মাঠে ফুটবল খেলতে দেখা যায়। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বসে সময় কাটাতেও দেখা যায়। ছাত্রীদের উপস্থিতিও ছিল কম। শ্রেণিকক্ষগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশও চোখে পড়েনি।

বিগত সময়ের ফলের চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে তিনজন পাস করেছিল। এবার ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র একজন। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয়রা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে দিতে চান না।

শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় পড়ালেখার মান খারাপ হয়েছে এবং ফলও খারাপ হয়েছে। ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখব কী কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে। বর্তমানে ঢাকায় আছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারব। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টির খারাপ ফলের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারিও দাবি করেছেন তারা।