2:10 pm, Tuesday, 11 August 2026

হরমুজ প্রণালি শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের, কমেছে জাহাজ চলাচল

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:17:58 pm, Tuesday, 11 August 2026
  • 6

হরমুজ প্রণালি শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের, কমেছে জাহাজ চলাচল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা ক্রমান্বয়ে কমে আসায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই প্রণালির শতভাগ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১১ আগস্ট) হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে, যার দুটি ছিল খালি তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকার। অন্যদিকে দুটি জাহাজ প্রণালি থেকে বের হয়েছে। এর মধ্যে একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যটি অবশিষ্ট জ্বালানি বহন করছিল।

যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করত। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে আসায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং এর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, হরমুজ এখন খোলা। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে। ট্রাম্প আরও জানান, প্রণালিটিতে এখনো মাঝে মাঝে মাইন পেতে রাখা হচ্ছে। তবে মার্কিন বাহিনী সেগুলো শনাক্ত করে দ্রুত অপসারণ করছে। তার দাবি, মাইন সরিয়ে ফেলার পর কৌশলগত এ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সেখানে ২৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনের গড়েও প্রতিদিন প্রায় ২৪টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। ফলে হরমুজের তুলনায় বাব আল-মান্দেবে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।

ফলে এ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় তিনি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি উত্থাপন করবেন। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর ট্রাম্পও পাল্টা ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। বিশেষ করে ইরানের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল থেকে ডেকে নিয়ে বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ

হরমুজ প্রণালি শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের, কমেছে জাহাজ চলাচল

Update Time : 01:17:58 pm, Tuesday, 11 August 2026

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা ক্রমান্বয়ে কমে আসায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই প্রণালির শতভাগ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১১ আগস্ট) হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে, যার দুটি ছিল খালি তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকার। অন্যদিকে দুটি জাহাজ প্রণালি থেকে বের হয়েছে। এর মধ্যে একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যটি অবশিষ্ট জ্বালানি বহন করছিল।

যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করত। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে আসায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং এর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, হরমুজ এখন খোলা। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে। ট্রাম্প আরও জানান, প্রণালিটিতে এখনো মাঝে মাঝে মাইন পেতে রাখা হচ্ছে। তবে মার্কিন বাহিনী সেগুলো শনাক্ত করে দ্রুত অপসারণ করছে। তার দাবি, মাইন সরিয়ে ফেলার পর কৌশলগত এ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সেখানে ২৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনের গড়েও প্রতিদিন প্রায় ২৪টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। ফলে হরমুজের তুলনায় বাব আল-মান্দেবে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।

ফলে এ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় তিনি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি উত্থাপন করবেন। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর ট্রাম্পও পাল্টা ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। বিশেষ করে ইরানের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে।