বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করার ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়নপত্র প্রদানের মধ্যে।
নিবন্ধন ও প্রত্যয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ৪ আগস্ট এ সংক্রান্ত কার্যবিবরণী জারি করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৫ সালের পরিপত্রের মাধ্যমে এনটিআরসিএ যে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল, তা বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটিকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী আগের দায়িত্বে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এনটিআরসিএ শুধুমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত।
তবে ২০১৫ সালের পর নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে পূর্বের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সভায় জানানো হয়, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১১৬টি বিষয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি এমপিওভুক্ত শূন্যপদের চাহিদা পাওয়া গেছে।
যাচাই-বাছাই শেষে ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনের জন্য সমসংখ্যক পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৫ হাজার ৯২৭টি শূন্যপদে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ছাড়া ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন ও নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে তাদের নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বর্তমানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বদলির ফলে সৃষ্ট শূন্যপদেও ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে, ৬৫ হাজার ৯২৭টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে দ্রুত ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভুল প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পাওয়া ১৯৯ জন প্রার্থীকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনঃসুপারিশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট পদে প্রত্যয়ন দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর প্রশাসনিক অনুমোদন শেষে প্রয়োজনীয় আদেশ, পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।















