নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) কাছে ভবন ও ইমারতের নকশা অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট আইনানুগ কার্যক্রমের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের দ্বৈততা বা প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক দুটি চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার। জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম এবং এর আগে ২১ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আম্বিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল ও রংপুরকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও আকর্ষণীয় নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আইনের ৪ ধারার আওতায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এসব কর্তৃপক্ষে চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদেরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের আগে ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদনসহ নির্মাণসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন পরিচালনা করত। তবে নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে এসব দায়িত্ব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীন পরিচালিত হবে।
এ কারণে আইন অনুযায়ী ইমারতের নকশা অনুমোদনসহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে এবং পূর্বে অনুমোদিত ইমারতের নকশা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে সিটি করপোরেশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোকে তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলো আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।















