যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ঐতিহ্যবাহী শৈলকুপা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এবারের ফলাফলে গড় পাসের হারে উপজেলার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করেছে বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিদ্যালয়ের সাধারণ শাখা থেকে ১৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ শাখায় বিদ্যালয়ের পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখা থেকে ১৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ শাখায় পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। উপজেলার মধ্যে গড় পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। বিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিদুল ইসলাম বলেন, পাইলট স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সুনাম ধরে রেখেছে।
এবারের ফলাফল সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এ সাফল্যের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময় অধিকাংশ দিনই বৃষ্টিপাত ছিল। এর মধ্যেও শিক্ষার্থীদের প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গড়াগঞ্জ কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা যে ভালো ফল করেছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠান। তারা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিলে শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠ ভালোভাবে বুঝতে পারবে। এতে তাদের ফলাফল আরও উন্নত হবে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ ফজলুর রহমান বলেন, এবারের ফলাফল আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমরা চাই আগামী বছর এ সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে।
সে লক্ষ্যেই ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অষ্টম শ্রেণি ও আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বাড়তি অনুশীলন ও নিবিড় পাঠদানের মাধ্যমে ফলাফল আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষকদের মতে, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে শৈলকুপা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভবিষ্যতে উপজেলা পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।

















